কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ষাইটকাহন গ্রামের সাইফুল ইসলাম ওরফে জাফরুল বাদী হয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শুক্রবার তিনজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন কালু, শামীম ও জীবন। 

মামলায় সাইফুল ইসলামের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, একটি এনজিওর কার্যালয় ভাঙচুর এবং এনজিওর কর্মীদের মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়। 

এক নম্বর আসামি করা হয়েছে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির তিন নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিনকে। তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের অনুসারী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার পুলেরঘাট বাজারে আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিনের হুকুমে সাইফুল ইসলাম ওরফে জাফরুলের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। তারা বসতঘরের ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এছাড়া তার বাড়িতে অবস্থিত এসএসএস নামের একটি এনজিওর অফিস ভাঙচুরসহ কর্মীদের মারধর করে। এতে সাড়ে চার লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা জাফরুল, এনজিও কর্মী রোজিনা ও নাছিমাকে মারধর করে। এদিকে, পার্শ্ববর্তী সুমন মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। হামলাকারীরা সুমন মিয়ার ফাইল কেবিনেট থেকে নগদ ৭৮ হাজার টাকা ও আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ার জাহান বলেন, আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাইফুল ইসলাম ওরফে জাফরুল ও সুমন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় কতিপয় দুষ্কৃতকারী। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম মামলা করেন। 

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে পুলেরঘাট বাজারে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ ও সাবেক এমপি অ্যাড. সোহরাব উদ্দিনের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয় বলে জানা গেছে।