মোবাইল ফোন চুরি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে জীবন চৌধুরী (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জীবন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মারা যান। এ ঘটনায় রাফি আহমেদ ও মো. বিজয় নামে আরও দুই কিশোর-তরুণ আহত হয়েছেন।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, হতাহত তিনজনের কেউ ওই বিরোধের মধ্যে ছিলেন না। তাদের বাসা ওই এলাকায়। হট্টগোল দেখে তারা এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারাই হতাহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দু'জনকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পুলিশ ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, নোমান ও শামীম নামে দুই তরুণ একই মেসে থাকেন এবং একই কারখানায় কাজ করেন। শুক্রবার নোমানের মোবাইল চুরি হলে তিনি অপরজনকে সন্দেহ করেন। একপর্যায়ে চোর ধরার উদ্দেশে শামীমকে 'চাল পড়া' খাওয়ানো হয়। লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, চাল পড়া খাওয়া ব্যক্তি চোর হলে তার কোনো শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তখন শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে নোমানকে মারধর করেন।

রাত ৮টার দিকে এক দফা মারামারি হওয়ার পর নোমান তার বন্ধু হৃদয়সহ অন্যদের বিষয়টি জানান। পরে রাত ১০টার দিকে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে কামরাঙ্গীরচরের কলেজ রোডে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। তাদের হাতাহাতি মারামারির মধ্যে পড়েন হতাহত তিনজন। ছুরিকাহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে জীবন মারা যান।

নিহত জীবন কুমিল্লার লাকসামের পশ্চিমঘর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে। তিনি কামরাঙ্গীরচরের কলেজ রোডে নুরু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহতের বাবা আবদুল হাকিম জানান, দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা জীবন একটি কার্টন কারখানায় কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে কলেজ রোডে মারামারির ঘটনায় তিনি আহত হন। তিনি চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় ছিলেন।

নিহতের বন্ধু নিরব জানান, কয়েকজন মিলে কলেজের এক নম্বর গেটে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অন্য এলাকার কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়। মোবাইল ফোন চুরি নিয়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। মারামারি থামাতে গেলে তাদের ছুরিকাঘাত করে এক পক্ষ।