ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে যৌতুকের জন্য এক সন্তানের মা মুসলিমা খাতুনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনায় তার শাশুড়ি আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে মুসলিমার স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, মুসলিমার সঙ্গে টাংগাবর ইউনিয়নের ছাপিলা গ্রামের আল আমিনের তিন বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর জন্ম হয় তাদের সন্তান আরাফাতের। এরই মধ্যে যৌতুকের জন্য মুসলিমার ওপর চাপ প্রয়োগ শুরু হয়।

এ নিয়ে প্রায়ই মুসলিমার ওপর নির্যাতন করত তার স্বামী। গত শুক্রবার রাতে নির্যাতনের এক পর্যায়ে আল আমিন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মুসলিমাকে আহত করে ঘরেই ফেলে রাখে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ঘটনার রাতেই নিহতের মা রোকেয়া খাতুন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আল আমিন, তার বাবা মফিজ উদ্দিন ও মা আনোয়ারা বেগমকে আসামি করা হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি চলে আনোয়ারা বেগমের কথায়। পাকাঘর থাকার পরও মুসলিমাকে তার শাশুড়ি বাড়ির পাশে একটি খুপরি ঘরে থাকতে দিতেন। মেপে মেপে চাল দিতেন রান্না করে খাওয়ার জন্য। আল আমিন থাকতেন পাকা ঘরেই।

রোকেয়া খাতুন জানান, বিয়ের পর থেকে আনোয়ারা বেগমের নির্দেশে আল আমিন তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। তার মেয়েকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। চিকিৎসা করা হলে হয়তো তিনি বেচে থাকতেন।

পাগলা থানার ওসি রাশেদুজ্জামান জানান, আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।