মামার বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ার অভিযোগে মা, নানা, নানীকে একসঙ্গে কুপিয়ে হত্যা করা বাবা মোস্তাফিজু রহমান মিন্টুর দ্রুত ফাঁসি দেখতে চায় তার দুই সন্তান মনিরুজ্জামান (১৩) ও মারিয়া আক্তার মিম (৯)।

তাদের ভাষ্যে, বাবা মিন্টু মানুষ নন, জানোয়ার। খুনি বাবার চেহারা দেখলে তাদের ঘেন্না লাগে।

গত ২৩ জুন শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের পটল গ্রামে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। শ্যালক শাহাদাতের বিয়েতে দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভে মিন্টু শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দা কুপিয়ে স্ত্রী মনিরা বেগম (৩৫), শাশুড়ি শেফালী বেগম (৫০), চাচা শ্বশুর  নূর মোহাম্মদকে ( ৬০)  হত্যা করে মিন্টু।

এসময় গুরুতর আহত হন মিন্টুর শ্বশুর মনু মিয়া, তার ছেলে শাহাদত হোসেন ও নিহত মাহমুদের স্ত্রী ফুল ছাহারা  (৫২)। 

গুরুতর আহত মনু মিয়া এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন । 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিন্টু মিয়াকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন মনু মিয়ার মেয়ে মিনারা বেগম।

পরে পুলিশ মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে। ২৪ জুন রাতে শেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নূর-ই- জাহিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় মিন্টু। পরে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

রোববার পটল গ্রামে নিহত মনিরা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকে পাথর হয়ে গেছে ওই বাড়ির লোকজন। গত তিন দিন উনুন জ্বলেনি বাড়িতে। নাওয়া–খাওয়া নেই বাড়ির লোকজনের।  

তিনজন সুস্থ মানুষ মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নির্মমভাবে প্রাণ হারাবে এখনও কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না। 

মা-নানীকে হারিয়ে মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে শিশু মনির ও মিমের। 

বাবা মিন্টুকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই ছেলে মনিরুজ্জামান মনির চিৎকার করে বলে, ‘খুব খারাপ লোক। আমারে কুন দিন ভালোবাসে নাই। মারে খুব অত্যাচার করতো। রমজান মাসে পাট শাক গরু খায়া ফেলে। তহন কাঁচি দিয়া মারে জবাই করতে যায় বাবা। তারপরে ভয়ে মা আমগরে নিয়া নানার বাড়িতে আসে। পরে নানা বাড়ীতে আইসা কয় আমার আম্মা নাকি ৫ লাখ টাকা নিয়া আইছে।’

সে বলে, ‘যেভাবে আব্বা মায়েরে মারছে, কুন জানোয়ার এমনভাবে কাউরে মারে না। তারে ফাঁসি দিলেও কম শাস্তি হইবো।’

মেয়ে মিম বলে, ‘ওর (বাবার) চেহারা দেখলে আমার ভয় লাগে। ঘিন্না করে। ও আমার মা- নানী- নানারে মারছে। আমি কাছে থাকলে আামারেও মারতো। তার ফাঁসি হওয়া উচিত।’

মা শেফালী, বড় বোন মিনারা ও চাচা নূর মোহাম্মদের ভয়ঙ্কর মৃত্যু স্তব্ধ করে দিয়েছে মামলার বাদী দিনারাকে। 

তিনি বলেন, ‘চাচা মাহমুদের ঘর পর্যন্ত গেলে সেখানে মিন্টু আমার বোনটাকে গরু-ছাগল যেভাবে কাটে সেভাবে কোপাতে কোপাতে মেরে ফেলে। চিৎকার শুনে চাচা ঘর থেকে বের হয়ে আসলে এক কোপে তারেও মেরে ফেলে।’

নিহত হাজী নূর মোহাম্মদের ছেলে জিসান (৪০) গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে কারখানায় চাকরি করেন। বাবার মৃত্যু তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। 

তিনি বলেন. ‘এক বাড়িতে তিনটা মার্ডার। কোনো কারণ ছাড়া। আমগর চোখের পানি শুকায়া গেছে। কাঁদবার পারি না। আব্বা খুব ভালো মানুষ ছিল। আব্বা কুন সাতে-পাচে ছিল না। বোন মনিরাকে বাঁচাতে এলে তাকে মেরে ফেলে মিন্টু।’

শ্রীবরদী থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘১৬৪ ধারায় আসামি মিন্টু হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে দ্রুত চার্জশিট দেব। আশা করছি এ মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’