হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছিলেন তানজিনা আক্তার। নানা সময়ে ইমিগ্রেশন পার হতে গিয়ে লম্বা লাইনের ধকল পোহালেও বৃহস্পতিবার তাকে সে ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বিমানবন্দরে স্থাপিত ই-গেটের সামনের রিসিভারে নিজের ই-পাসপোর্ট রাখতেই তার ছবি ও তথ্য মিলে যাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন গেট খুলে যায়। মাত্র ১৮ সেকেন্ডে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে ইমিগ্রেশন বুথে ভিসা আর আনুসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই শেষে তিনি সম্পন্ন করেন ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া।

তানজিনা আক্তার বলছিলেন, বিভিন্ন সময়েই অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের নামে হয়রানির মধ্যে পড়তে হতো। এবার ই-গেটের কারণে সেই ভোগান্তিটাতে পড়তে হয়নি। সবকিছুই চটজলদি হয়ে গেল!

প্রদ্বীপ কুমার সাহা শ্রমিকের ভিসায় যাচ্ছিলেন সৌদী আরব। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনিও নিজের ই-পাসপোর্ট নিয়ে পার হন ই-গেট। এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশের বুথে দ্রুততম সময়েই ভিসা ও টিকিট দেখিয়ে তিনি বিমানের দিকে যাওয়ার সুযোগ পান।

মানিকগঞ্জের বাসিন্দা প্রদ্বীপ বলেন, শুনেছিলাম ইমিগ্রেশনে নাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখন তো দেখলাম এক মিনিটেই সব কার্যক্রম শেষ করে তাকে যাওয়ার অনুমতি দিল!

বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) স্থাপিত ই-গেট ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখতে গিয়ে এমন দৃশ্য মেলে। যাত্রী এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বলছেন, বহির্গমন ও আগমনী যাত্রীদের মধ্যে যাদের ই-পাসপোর্ট রয়েছে, তারা ই-গেট পার হতে পারছেন। এতে ভোগান্তি কমছে, সময়ও বেচে যাচ্ছে যাত্রীদের।

ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, আগে যে কাজ করতে যাত্রীপ্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগতো, এখন যাত্রীরাই তা মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে পারছেন।

ডিআইপির ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদাত হোসেন বলেন, ই-গেট মূলত ব্যক্তি ও তার পাসপোর্ট সঠিক কিনা, তা যাচাই করে থাকে। এতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নির্ভুলভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হচ্ছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের বুথের সামনে যাত্রীদের জটলা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের বহির্গমন গেটে ১২টি এবং আগমনী গেটে ১২টি সহ মোট ২৪টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৬টি, বেনাপোল ও বাংলাবান্দা স্থল বন্দরে একটি করে ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরে ২২টি ল্যান্ড চেকপোস্টেও ই-গেট স্থাপন করা হবে। তবে এখনও সব যাত্রী ই-গেট ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। এই সিস্টেম ব্যবহারকারি যাত্রীদের সহায়তা করতে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও ডিআইপির প্রতিনিধিরা কাজ করছেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম বলেন, ই-গেটের মাধ্যমে একজন যাত্রীর পাসপোর্টটি চেক হয়ে যাওয়ায় ইমিগ্রেশন বুথে ভিসা, সরকারি জিও (যদি থাকে), রেজিডেন্স কার্ড ও বিএমইটি কার্ডসহ অন্যান্য ডকুমেন্টস চেক করতে খুব অল্প সময় লাগছে। ই-গেটের মাধ্যমে যখন একজন যাত্রী যখন ভেরিফাইড হয়ে যাচ্ছেন, তখন তাকে আর বেশি সময় ধরে চেক করতে হচ্ছে না। তবে যেসব দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন হয় না, ভ্রমনের নামে সেসব দেশে মানবপাচার হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ই-ভিসাসহ অন্যান্য ডকুমেন্টস ই-গেটে যুক্ত নয়। ই-ভিসা চালু হলে ইমিগ্রেশন পার হতে আরও কম সময় লাগবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, উপমহাদেশের মধ্যে বাংলাদেশেই ই-পাসপোর্ট প্রচলিত হয়েছে। এর জন্য বিমানবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের অনেকে এখনও ই-গেট ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। ধীরে ধীরে যাত্রীরা অভ্যস্ত হয়ে উঠলে দ্রুততম সময়ে যেমন ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, তেমনি নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত হবে।