সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় ব্যাপক চাপে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। বাজার সামলাতে বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষদিন কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবমিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭৬২ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছর বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে ৭৯৩ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রচুর ডলার বিক্রির পরও গত আগস্টের তুলনায় প্রতি ডলারে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা বেড়ে আন্তঃব্যাংকেই দর উঠেছে ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গতকাল ৪১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর আগে গত বছরের আগস্টে যা সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। আমদানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ও রেমিট্যান্স কমতে থাকলে রিজার্ভ আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করা হয়েছে। তবে আগের অর্থবছর যে পরিমাণ কেনা হয়, সে বিবেচনায় নিট বিক্রি কম হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি ডলারের দর নিয়ন্ত্রণ করত। এখন বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, করোনা-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন চাহিদা বাড়ছিল, এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অধিকাংশ পণ্যের দর বেড়েছে। বিলাসবহুল ও কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগের পরও এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি বেড়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। একই সময় পর্যন্ত রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। আবার রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ শতাংশ।