রাজধানীর উত্তরায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী। আজ শুক্রবার দুপুরে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে তাঁর বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁর স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফাহমিদা হককেও গালাগাল করা হয়। পরে একদল মুসল্লি হামলা চালিয়ে তাঁদের বাসার সামনের অংশে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করেন এ দম্পতি। অবশ্য পুলিশ বলছে, হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম সমকালকে বলেন, জুমার নামাজের সময় তাঁরা গাড়ি নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার প্রধান ফটকে একটি মোটরসাইকেল রাখা দেখে তাঁদের গাড়িচালক হর্ন বাজান। তখন সামনের মসজিদ থেকে এসে এক মুসল্লি এ নিয়ে কথা বলেন। এর জের ধরেই বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির সময় হয়তো রতন সিদ্দিকীর শরীরে আঘাত লেগে থাকতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

রতন সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় তারা থাকেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি নিয়ে বাসায় ফেরার সময় প্রধান ফটকে মোটরসাইকেল থাকায় গাড়ি ঢোকানো যাচ্ছিল না। সেটি সরানোর জন্য হর্ন বাজিয়ে সংশ্নিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালান গাড়িচালক। তিনি বলেন, এর পরই বাসার বিপরীত দিকের মসজিদ থেকে প্রথমে একজন এবং পরে কয়েকজন মুসল্লি এসে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন। রতন সিদ্দিকী জানান, এক পর্যায়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রীকে গালাগাল করতে শুরু করেন তাঁরা। তাঁর ওপর হাত তোলা এবং বাসায় ভাঙচুর হয়েছে বলেও জানান এ নাট্যকার। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রতন সিদ্দিকী বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী অসাম্প্রদায়িক মানুষ। তিনি উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সঙ্গে আছেন, লেখালেখি ও নাটক করেন। উত্তরায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির সভাপতি ছিলেন। তখন প্রতিক্রিয়াশীলরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও শোভাযাত্রার বিরোধিতা করে। কিন্তু তিনি আয়োজন থেকে পিছিয়ে যাননি। এ নিয়ে তাঁর ওপর তাদের রাগ। তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা হক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি উত্তরায় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি। এসব কারণে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ওপর হামলা করেছে।

অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। তাঁর মেয়ে পূর্ণাভা সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, বাসার ফটকের সামনে সবজির ভ্যান ও মোটরসাইকেল রেখে সড়ক আটকে রাখা ছিল। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের অবস্থানের কারণে পুরো সড়ক প্রায় বন্ধ ছিল। তখন গাড়িচালক হর্ন দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তার বাবা গাড়ি থেকে নেমে কথা বলতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং পেটে আঘাত করা হয়। তাঁর মায়ের কপালে টিপ দেখে তাঁরা সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলে। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সাড়া পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিচিত পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের ফোন করেন তিনি। পুলিশ আসার পর হামলাকারীরা বলেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।