ড্রোনের মাধ্যমে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল শনিবার ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জোবায়দুর রহমান উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
ডিএনসিসি জানায়, প্রথম দিনে ডিএনসিসির পাঁচটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎসস্থল, বাসবাড়ির ছাদ ও ব্যালকনি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ১ থেকে ৫ নম্বর অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১ নম্বর অঞ্চলের (উত্তরা) ৩২২টি ভবন সার্ভে করে একটি বাড়ির ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তবে পাঁচটি অঞ্চলের সহস্রাধিক ভবনের ছাদ, ব্যালকনি ও ছাদবাগান সার্ভে করলেও কোনো লার্ভা পাওয়া যায়নি।
ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, ২ থেকে ১১ জুলাই ডিএনসিসির প্রতিটি বাসাবাড়িতে অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস খুঁজতে চিরুনি অভিযান চলবে। ড্রোন থেকে প্রাপ্ত ছবি ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে, যা আগামী বছর মশক নিধন কার্যক্রমে কাজে লাগবে।
গান শুনিয়ে ছিটানো হচ্ছে ওষুধ :এদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মশক নিধনে দু'জন কর্মী ওষুধ ছিটাবেন, সঙ্গে আরেক কর্মী হ্যান্ডমাইকে সচেতনতামূলক গান (জিঙ্গেল) বাজাচ্ছেন।
ডিএসসিসি জানায়, বাংলাদেশ বেতারের সার্বিক সহযোগিতায় জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছেন চম্পা বনিক ও অশোক পাল। গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার ও সুর করেছেন আশোক পাল।
৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের জিঙ্গেলে বলা হয়েছে, ঘরে কিংবা আশপাশে জমলে স্বচ্ছ পানি/ তিন দিন পরে সেই পানিতে এডিস মশা জন্ম নেবে জানি/ ডোরাকাটা এডিস মশা কামড়ায় দিনের বেলা/ ঘুমালে তাই মশারি টানাব, চলবে না যে হেলা/ সচেতন থাকলে পরে নেই কোনো ভয়ডর, উদাসীন হই না যেন থাকি তৎপর।'
নগরবাসীকে সচেতন এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে তথ্য দিয়ে জিঙ্গেল তৈরি করা হয়েছে। জিঙ্গেলে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন ডিএসসিসিকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেন।
ডিএসসিসির মুখপাত্র আবু নাছের সমকালকে বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এ জন্য এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। দু'ভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একটি হলো লার্ভিসাইডিং, যেটি মশার লার্ভা ধ্বংস করে। আরেকটি অ্যাডাল্টিসাইডিং, যেটি ওষুধ ছিটিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন।