রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় ভূমি অফিস ঘিরে সক্রিয় দালাল ও প্রতারক চক্র। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন খাজনা দিতে আসা ভূমি মালিকরা। অভিযোগ উঠেছে, জনবল সংকটের নামে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা অফিসের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন এ দালালদের। ভুক্তভোগীরা জানান, দালাল ছাড়া এ অফিসে খাজনা দেওয়ার সুযোগ নেই।

তাঁরা জানান, খাজনা দিতে আসা ভূমি মালিকদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখে তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে নানা টালবাহানা করে চক্রটি। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে নামের মিল নেই, দাগ নম্বর ও ঠিকানা ভুল- এসব অজুহাতে বাড়তি টাকা নেন তাঁরা। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা এ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

কর্মকর্তারা বলেন, কয়েক মাস হয় দক্ষিণখানের মোল্লাবাড়ি এলাকায় সরকারের খাস জমিতে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন এ ভূমি অফিস। বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে (অনলাইনে) ভূমির খাজনা আদায় করা হয়। খাজনা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর অনলাইন থেকে রসিদ সংগ্রহ করতে পারেন ভূমি বা ফ্ল্যাট মালিক। এ বিষয়ে দক্ষিণখান ভূমি অফিসের তহশিলদার আনোয়ার হোসেন জানান, মোল্লাবাড়ি এলাকায় সম্প্রতি এ অফিস চালু হয়েছে। এর আগে এ ভূমি অফিস ছিল দক্ষিণখান বাজার-সংলগ্ন একটি বেসরকারি মার্কেট এলাকায়। তিনি বলেন, এ অফিসের অনেক কাজ এখনও বাকি। চাহিদা অনুযায়ী অফিসে নেই কম্পিউটার। আর কম্পিউটার চালানোর মতো নেই অভিজ্ঞ জনবল।

তহশিলদার বলেন, এ কারণে বহিরাগত অভিজ্ঞ লোকজনের সহায়তায় অনলাইনে খাজনা নেওয়া হয়। খাজনা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর ভূমি অফিস থেকে রসিদ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কম্পিউটার ও জনবল সংকটের কারণে সবাইকে তা দেওয়া হয় না। এ কারণে বিভিন্ন কম্পিউটার দোকান থেকে অনলাইনে খাজনার রসিদ সংগ্রহ করেন তারা। আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন গড়ে লাখ টাকার বেশি খাজনা আদায় করা হয়। কোনো কোনো দিন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় হচ্ছে এ ভূমি অফিসে।

সরেজমিন ঘুরে দক্ষিণখান ভূমি অফিস ঘিরে দালাল ও প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য দেখা যায়। চক্রটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অফিসের কিছু কর্মী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা নানা অজুহাতে বাড়তি টাকা আদায়ে দেনদরবার করেন খাজনা দিতে আসা সাধারণ ভূমি মালিকদের সঙ্গে। দক্ষিণখানের বাসিন্দা আছির উদ্দিনসহ ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, ৫০০ টাকার খাজনা দিতে তাদের গুনতে হয় দ্বিগুণ টাকা। ভূমি মালিকদের অভিযোগ, দালাল ও অসাধু কিছু কর্মীদের বাড়তি টাকা না দিলে তাঁরা নানাভাবে হয়রানি করেন।

বিষয় : দক্ষিণ খান

মন্তব্য করুন