সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ইল ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের ফারুক মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার আগ্রাসন থেকে বাঁচতে ঘর ছাড়েন গত ১৮ জুন রাতে। গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয় নেন পাশের ধল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেই গত ২৪ জুন জন্ম নেয় ফুটফুটে একটা কন্যা সন্তানের। বন্যার সময় জন্ম হওয়ায় মেয়ের নামও রেখেছেন বন্যা।

১২২ বছরের রেকর্ড ভাঙা মহাপ্লাবনের সময় জন্ম নেওয়া বন্যা জানে না ভয়াবহ এই তাণ্ডবের কথা। বাড়িঘর ভেঙে স্কুল ঘরে আশ্রয় নেওয়া নিঃস্ব তার বাবাও জানেন না কীভাবে নতুন করে ভাঙা ঘর বাঁধবেন। কীভাবে নিজের পৈত্রিক ভিটায় যাবেন। কীভাবে তার বন্যা বাড়ি যাবে।

ফারুক মিয়া বলেন, বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। কোমর পর্যন্ত পানি হয়েছে ঘরে। রাতে বাচ্চাদের নিয়ে কই যাব? নৌকাও পাই না। পরে সাঁতরে এই স্কুলে উঠেছি। এই আশ্রয়কেন্দ্রেই সপ্তাহখানেক আগে আমার মেয়ে জন্ম নিয়েছে। বন্যার সময় জন্ম নিয়েছে, তাই নাম রেখেছি বন্যা। কিন্তু এখনও ঘর ভাঙা, যাওয়ার কোনো উপায় নেই। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া আমরা বন্যাকে নিয়ে ঘরে যেতে পারব না।

একই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন রাজু বিবি। ফারুক মিয়ার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা উঠার পর তিনিই পাশে থেকে ধাত্রীর কাজ করেন। রাজু বিবি বলন, ওইদিন শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রসব ব্যথা উঠে। কিন্তু নৌকা নেই হাসপাতালে যাওয়ার। এ পরিস্থিতিতে কিছুই করার ছিল না। বললাম, আল্লাহকে ডাকো। পরে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।