অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছেই। এতে সিডনি শহরের বন্যা পরিস্থিতি আরও নাজুক অবস্থায় চলে গেছে। নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার নগরীর আরও কয়েক হাজার বাসিন্দাকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ব উপকূলীয় নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে তাদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তাঁদের অধিকাংশই সিডনির পশ্চিমাংশের বাসিন্দা। খবর বিবিসির। এর আগে সোমবার ওই অঞ্চলের ৩০ হাজার বাসিন্দাকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ডমিনিক পেরোটেট সাংবাদিকদের বলেছেন, অনুগ্রহ করে আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না, এই দুর্যোগ শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। যেখানেই থাকুন, রাস্তাগুলোতে গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকবেন।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, উপকূলীয় নিম্নচাপটি উত্তর দিকে চলে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে সিডনিতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার প্রকোপ কমতে পারে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে কোথাও কোথাও তিন দিনে এক বছরের সমপরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। তবে সর্বশেষ বৃষ্টিপাতের আগে থেকেই অধিকাংশ নদীখাদগুলো পানিতে প্রায় পূর্ণ থাকায় সপ্তাহজুড়েই বন্যার ঝুঁকি থাকতে পারে।
রাজ্যটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী স্টেফ কুক বলেন, 'আমরা সিডনির বাসিন্দাদের আজ বাসায় থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না।'
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিডনির উপকূলে একটি মালবাহী জাহাজ অচল হয়ে পড়ার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা উত্তাল সাগরের সঙ্গে লড়াই করে তাঁদের উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
আবহাওয়া ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সিডনির পশ্চিমাংশের উইন্ডসরে বড় ধরনের বন্যা হচ্ছে। এটি এ বছরের তৃতীয় ও সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ফুটেজে পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা ও সেতু দেখা গেছে, পাশাপাশি জরুরি বিভাগের কর্মীদের দ্রুত বাড়তে থাকা পানিতে আংশিক ডুবে যাওয়া বেশ কয়েকটি গাড়ি থেকে লোকজনকে বের করে আনতেও দেখা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম শালমার্স সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতির ওপর এই বন্যার প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে। খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়ে মূল্যবৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।