দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে কিলঘুষি মারার ঘটনায় কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন। কুমিল্লার এই সংসদ সদস্যকে বিচারের আওতায় না আনা হলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা একযোগে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন-অর রশীদ হাওলাদার এ ঘোষণা দেন। দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার। এসময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খান বীরু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আজিজ, ইয়াসিন মিয়া, রেজাউল হক জানু, আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট রিনা পারভীনসহ বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন

লিখিত বক্তব্যে হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। তারা এ ঘটনার দ্রুত শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছেন। আগামী মাস শেষ হওয়ার আগেই তারা দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে কয়েকটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে।

হারুন-অর রশীদ বলেন, আগামী ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের আচরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যানরা ঢাকায় সমাবেশ করবেন। তারপরও যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে সব উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রী ও নিজ এলাকার জনগণকে অবহিত করে একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।

গত ১৬ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য রাজী দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে কিলঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।

হারুন-অর রশীদ বলেন, এ ঘটনায় শালীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আবুল কালামকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। ব্যক্তি স্বার্থ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থে আবুল কালামকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন হারুন অর রশীদ।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা নজিরবিহীন। এ ঘটনা সরকারকেও বিব্রত করেছে। এ ঘটনা দেশের ৪৯২টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সব জনপ্রতিনিধিদের আহত করেছে। তারা ধৈর্যের সঙ্গে আশা করেছিলেন যে রাজী মোহাম্মদ ফখরুল দায় স্বীকার করবেন। নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন। কিন্তু তিনি উল্টো পথে হাঁটছেন। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টির রাজনৈতিক সমাধান চায় বলে উল্লেখ করেন হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও আবুল কালাম আজাদ উভয়ই আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আবুল কালাম ইতোমধ্যেই সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বরাবর আবেদন করেছেন। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে আবুল কালাম আজাদকে মুঠোফোনে সংযুক্ত করা হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় রাজী মোহাম্মদ ফখরুল তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ঢাকায় আওয়ামী লীগ একটি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে দুজনকেই ডাকা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।