ব্যস্ত নগরে ধ্যানমগ্ন ক্লান্ত মানুষ। কারও অপেক্ষায় দিকহারা যুবক। চারদিকে হিংস্র প্রাণী। বিলের পানিতে ফুটন্ত পদ্মে যুবতীর অবয়ব, ধরা দিয়েছে অপরূপ মহিমায়। সেও কাকপক্ষীর ভিড়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে মূর্ত করে তুলেছে মানবজীবনের অস্থিরতা।

গতকাল বুধবার শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া '২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে' এভাবেই রং-তুলির আঁচড়ে ধরা দিয়েছে স্বপ্নের নগর। সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা প্রদর্শনীতে ১ হাজার ১৯ জন থেকে বাছাই করা ৩৫৬ নবীন (২১-৩৫ বছর) শিল্পীর ৪২২টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শিল্প সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও চিত্রশিল্পী ড. ফরিদা জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম।

শান্তা মারিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আবিদুর রহমান কচি বলেন, নগরী আর প্রকৃতি রক্ষায় ফুটে উঠেছে নবীনদের হাতে। যেখানে নদীতে চলবে নৌকা, হবে না দূষণ। সবুজ প্রকৃতিতে সুখে-শান্তিতে থাকবে সবাই।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনা এবং সাইফুল ইসলাম ইভানের পরিচালনায় পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য 'মানবতার জননী'। আলোচনা পর্বের পর 'সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী' ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা অবলম্বনে দুটি নৃত্য পরিবেশিত হয়।

এ বছর নবীন শিল্পী চারুকলা পুরস্কার পেয়েছেন সাজিয়া সন্ধ্যা, চিত্রকলায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ফয়েজ আলম হাসান, ছাপচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার রুমানা রহমান, ভাস্কর্যে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সুস্মিতা মুখার্জ্জী মিষ্টি, প্রাচ্যকলায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সৌরভ ঘোষ, কারুশিল্পে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার রাজন নন্দী, মৃৎশিল্পে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হালিমা আক্তার, গ্রাফিক ডিজাইনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার মাহাতাব রশীদ, আলোকচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার শাহেদুল ইসলাম সাদিক, স্থাপনা শিল্পে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সামিয়া আহমেদ, পারফরমেন্স আর্টে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সুজন মাহাবুব ও নিউ মিডিয়া আর্টে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার জুয়েল চাকমা পেয়েছেন।