রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত একটি লাগেজ থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ হয় এক মাস আগে। ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে সংশ্নিষ্ট যাত্রীর নাম-ঠিকানা পেয়ে মামলা করা হয় পরদিনই, কিন্তু রহস্যজনক কারণে আসামি ধরা পড়েনি আজও। অভিযোগ আছে, এসব মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের 'ম্যানেজ' করে পার পেয়ে যান পাচারকারীরা।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৯ জুন বিমানবন্দরে মামুন খান নামে ওই যাত্রীর লাগেজ থেকে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৫৪৫ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল। লাগেজের ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে বিঅয় ০২৪৩৮৮৮ পাসপোর্ট নম্বর শনাক্ত হয়। তিনি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার আরজেমপুম গ্রামের খোকন খানের ছেলে। এ ঘটনায় পরদিন বিমানবন্দর থানায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মামুমা বেগম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন বিমানবন্দর থানার এসআই মাহবুব হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কাস্টমস ও শুল্ক্ক গোয়েন্দার কয়েকজন কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার বলেন, স্বর্ণ, বিদেশি মুদ্রাসহ যে কোনো ধরনের অবৈধ পণ্যের চালান ধরা পড়লে অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় পালিয়ে যান পাচারকারীরা। বড় অঙ্কের লেনদেনের বিনিময়ে অভিযুক্ত যাত্রীদের পালানোর পথ করে দেওয়া হয়। আর যারা পণ্যসহ আটক হন তারা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে জামিনে বেরিয়ে আগের পেশায় জড়ান এবং ওই মামলার তদন্ত ঝুলিয়ে দেন। এতে জানা যায় না চক্রের হোতাসহ অন্য সদস্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য। এভাবেই রহস্যজনক কারণে পলাতক আসামিদের অনেককেই ধরা হয় না।

মামুন খানের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচয় ও ঠিকানাসহ কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুব। তিনি বলেন, আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে তিনি কোথায় আছেন তা শনাক্ত করা যায়নি। তদন্তের স্বার্থে মামুন এবং অভিযান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না।

বিষয় : বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ ঢাকা কাস্টমস

মন্তব্য করুন