রাজধানীর উত্তরার তুরাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের একটি গুদামে বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে ৮ জন দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার দুপুরে কামারপাড়া এলাকায় গাজী মাজহারুল ইসলামের গুদামে ওই বিস্ফোরণ হয়।

দগ্ধদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দগ্ধদের মধ্যে গুদাম মালিক গাজী মাজহারুল ইসলামও রয়েছেন। এ ছাড়া মিজানুর রহমান, নূর হোসেন, আলম মিয়া, মো. মাসুম, আল-আমিন, মো. শাহীন ও শরিফুল ইসলামকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এই সাতজন পেশায় রিকশাচালক।

পুলিশ বলছে, গুদামটি লাগোয়া রিকশার একটি গ্যারেজ রয়েছে। ওই গ্যারেজের মালিকও গাজী মাজহারুল ইসলাম। গ্যারেজের রিকশা চালকদের নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জার সরানোর সময়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে পারলেও সেখানে থাকা ৮ জনই দগ্ধ হন।

দগ্ধদের সঙ্গে হাসপাতালে আসা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম দাবি করেন, রিকশা গ্যারেজের ভেতর পুরোনো ভাঙ্গারি মালামাল ছিল। সেখানে স্ক্যাপ মেশিনে চাপ দিয়ে মালামাল এক করার সময়ে এর ভেতর থাকা স্প্রে বোতল ছিল। হঠাৎ ওই বোতলগুলো থেকে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।

দগ্ধদের একজন মো. শাহীন জানান, ঘটনার সময়ে তিনি গ্যারেজে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণে তিনি দগ্ধ হন। ভাঙারির দোকানের সামনে ড্রেনের লাইনে পুরোনো পারফিউমের বোতল পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে ছিল। সেখান থেকে একজন বোতলগুলো তুলে তা স্ক্যাপ মেশিনে চাপ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ হয়।

তুরাগ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, মূলত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গুদামে গ্যালান বা সরানোর সময়ে বিস্ফোরণ হয়। সেখানে সব অতি দাহ্য পদার্থ। হয়তো গুদামটি অবৈধ হওয়ায় মালিক মাজহারুলের লোকজন বিষয়টি স্বীকার করছিলেন না। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, রিকশা গ্যারেজ ও কিছু পুরনো মালামাল অক্ষত রয়েছে।

তিনি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে, স্যানিটাইজারের জার সরানোর সময়ে কেউ ধূমপান করলে সেখানে বিস্ফোরণে আগুন লাগে বা এসিড ভরা জারগুলোতেও গ্যাস জমে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন আইউব হোসেন বলেন, দগ্ধদের সবার অবস্থায় আশঙ্কাজনক। প্রত্যেকের শরীর ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে।