রাজধানীর উত্তরার তুরাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের একটি গুদামে বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ ৮ জনের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত শনিবার মধ্য রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তারা মারা যান।

ওই তিনজনের একজন নুর হোসেন (৬০)। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে তার ছেলে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। বলছিলেন, এভাবে তার বাবার মৃত্যুটা মেনে নিতে পারছেন না, চেহারাও বুঝা যাচ্ছে না। বাবার লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়ারও টাকা নেই। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।' 

অন্য দুইজন হলেন-গাজী মাজহারুল ইসলাম (৪৮) ও আলম মিয়া। গুদামটির মালিক ছিলেন মাজহার, ওই গুদামের পাশেই তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজের মিস্ত্রি ছিলেন আলম। তিনি গত মে মাসে বিয়ে করেছিলেন।

এই ঘটনায় এখনও বার্ন ইনস্টিটিউিটে মিজানুর রহমান, মো. মাসুম, আল-আমিন, মো. শাহীন ও শরিফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন আইউব হোসেন জানান, নুর হোসেনের শরীরের ৯৫ ভাগই পুড়ে গিয়েছিল। আলম ও মাজহারের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

বার্ন ইনস্টিটিউটের কর্মীরা জানান, শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নুর হোসেন মারা যান। দুইটার দিকে মাজহারুল ইসলাম এবং রোববার ভোরের দিকে আলম মিয়া মারা যান।

তুরাগ থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, গুদামটি লাগোয়া রিকশার একটি গ্যারেজ রয়েছে। ওই গ্যারেজের মালিক মাজহারুল ইসলাম গ্যারেজের রিকশা চালকদের নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জার সরানোর সময়ে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে পারলেও দগ্ধ হন সেখানে থাকা ৮ জনই। গুদামটি অবৈধ ছিল।

দগ্ধ নুর হোসেনের ছোট ছেলে নাজমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তার বাবা রিকশা চালাতেন। শনিবার গ্যারেজে রিকশা জমা দিয়ে বের হওয়ার সময়েই গ্যারেজ লাগোয়া গুদামে বিস্ফোরণ হয়। এই মৃত্যুর জন্য গুদাম মালিক দায়ী।

মৃত আলমের শ্বশুর রবিউল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাস তিনেক আগে আলমের সঙ্গে তার মেয়ে স্বর্ণালী আক্তারের বিয়ে হয়। মেয়েটার ভবিষ্যত শেষ হয়ে গেল। গুদাম মালিকের গাফিলতিতে তাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। এই ঘটনার বিচার চান তিনি।

এদিকে গুদাম ও রিকশার গ্যারেজের মালিক গাজী মাজহারুল ইসলামের ছোট ভাই গাজী নাহিদ হোসেন বলেন, রিকশার গ্যারেজের মধ্যেই ভাঙারি মালামাল ছিল। পাশেই ক্যামিকেলের কিছু জার ছিল। কীভাবে কি হলো তারা কিছুই বুঝতে পারছেন না। এতে তার ভাইয়েরও প্রাণ গেছে।