মা জাকিয়া সম্পা (২২) সিজোফ্রেনিয়া রোগী। নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। কী করছেন, কী করবেন বোঝার ক্ষমতা থাকে না। কখনও কখনও আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন। ফলে ঘটিয়ে ফেলেন অঘটন। যে কারণে জাকিয়াকে পায়ের শিকল দিয়ে ঘরের খাটের সঙ্গে আটকে রাখা হতো।

রোববার বিকেলে নিজের শিশু মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে রাজধানীর রামপুরায়। নিহত শিশুর নাম ঝুমুর (৫)।

রামপুরা থানার ওসি সমকালকে বলেন, জাকিয়া সিজোফ্রেনিয়া রোগী। তাঁর চিকিৎসা করানো হচ্ছে। চিকিৎসা করানোর প্রমাণপত্র পাওয়া গেছে। শিশুটিকে তিনি ঘরে ডেকে হত্যা করেন। তবে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে যান যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে কোনো উপায়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

ওসি বলেন, জাকিয়া উন্মাদ অবস্থায় আছেন। ওই বাসায় শিকলে বাধা অবস্থায় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

জাকিয়ার স্বজনরা জানান, তাঁর স্বামী জসিম তালুকদার সাভারে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ৫ বছরের ঝুমুর ও দুই বছরের ছেলেকে নিয়ে জাকিয়া গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যায় থাকেন। জাকিয়ার ভাই জামাল বসবাস করেন রামপুরা বিটিভি সেন্টারের পাশে জাকির রোডে। জাকিয়াকে চিকিৎসা করানোর উদ্দেশে কয়েকদিন আগে ওই বাসায় নিয়ে আসেন তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তার বেপারী। সঙ্গে জাকিয়ার দুই শিশু সন্তানকেও আনা হয়।

তারা আরও জানান, জাকিয়া অসংলগ্ন আচরণ করায় শিকল দিয়ে তাকে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। শিকল ২-৩ হাত লম্বা রাখা হয়, যাতে তিনি ঘরে ঘুরতে এবং খাটে নিজের মত করে থাকতে পারেন। রোববার দুপুরে শিশু ঝুমুরকে ঘরে ডেকে নেন জাকিয়া। এরপর দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ দরজা আটকানো থাকায় তাঁর ভাবীর সন্দেহ হয়। বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেন। এক পর্যায়ে দরজা খুলে দেন জাকিয়া। দরজা খোলার পর জাকিয়া মেয়ের শরীর টিপে টিপে দেখছিলেন। এ সময় তাঁর ভাবী মেয়েটিকে কেড়ে নিয়ে কোলে তুলে দেখেন কোনো সাড়াশব্দ নেই। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। পরে ঢাকা লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়।

স্বজনরা জানিয়েছেন, জাকিয়ার বাল্য বিয়ে হয়েছিল। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।