প্রতিদিনের মতো রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নারিন্দার বাসা থেকে ২ মিনিট হেঁটে দয়াগঞ্জ মোড়ে দাঁড়াই। গন্তব্য তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার সমকাল কার্যালয়। সপ্তাহে ৬ দিনই এই রুটে যাতায়াত। দয়াগঞ্জ থেকে মালঞ্চ পরিবহনের বাসে পুরানা পল্টন মোড়ে নামি। সেখান থেকে বাস বদলে সাতরাস্তা। দয়াগঞ্জ থেকে মৎস্য ভবন মোড়ের ভাড়া ১০ টাকা; পল্টনে নামলেও তাই। ডিজেলের দাম বাড়ায় বাসের ভাড়া বেড়েছে। রোববার কন্ডাক্টর চাইল ১৫ টাকা। তর্কে না জড়িয়ে দিলাম।
না দিয়ে কী উপায়। কিন্তু হিসাব বলছে, কিলোমিটারে আড়াই টাকা ধরে দয়াগঞ্জ-পল্টনের ভাড়া ১০ টাকাই। কিন্তু মালঞ্চ বাসে সহযাত্রী প্রবীণ ভদ্রলোক ১০ টাকা দিতেই কন্ডাক্টর বললেন- 'চাচা ১০ টাকার দিন শেষ, ১৫ দেন'! ভদ্রলোক আমার মতো নির্বিরোধী। ৫ টাকা বাড়তি দিলেন। তবে এক কলেজছাত্রের টিপ্পনিতে প্রবীণ ভদ্রলোক বললেন- 'সবই মালিকের সরকার। যাত্রীর সরকার দেখলাম না।' পল্টনে নেমে মিনিট বাদে আজমেরীর বাস পেলাম। ভাড়া কত? ৩০ টাকা। শুক্রবারও তো ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে সাতরাস্তায় গিয়েছি! তাও বাসে চড়লাম। মালঞ্চের মতোই ওয়েবিল পদ্ধতিতে চলে এই বাসও। গুলিস্তান থেকে বনানীর কাকলী পর্যন্ত ভাড়া ছিল ২০ টাকা; তবে তেজগাঁও সাতরাস্তা নামলেও ২০ টাকা।

মালিবাগ পার হয়ে ভাড়া আদায় শুরু করলেন কন্ডাক্টর। পাশের সহযাত্রীর গন্তব্য মগবাজার। তাঁর কাছে ৩০ টাকা চাইতেই রেগে গেলেন। স্মার্টফোনে সার্চ দিয়ে বললেন, 'এই ব্যাটা দেখ, সরকার কিলোমিটারে ভাড়া করেছে আড়াই টাকা। কাকড়াইল মোড় থেকে মগবাজার ২ কিলোমিটার। তোর ভাড়া হয় ৫ টাকা, তাও সর্বনিম্ন হিসাবে ১০ দিলাম।' কন্ডাক্টরও ক্ষিপ্ত। বললেন, 'এই গাড়ি ওয়েবিলে চলে। ওই ভাড়াই দিতে হবে।' পেছন থেকে আরেক সহযাত্রী বললেন, 'ওয়েবিলের পর যে পথে পথে থামিয়ে যাত্রী তোলো, ওটা বন্ধ কর।'

তালিকা না টানিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ে কোনো কোনো সহযাত্রী সরব হলেও আমার মতো নীরব ছিলেন অনেকে। তাঁদের মনের ভাব, বলে কী লাভ। মগবাজার রেলক্রসিংয়ের সামনে নতুন বিপত্তি। এক কলেজছাত্র অর্ধেক ভাড়া দিতে চান। কন্ডাক্টরের জবাব, হাফ ভাড়া মানে ২০ টাকা। ছাত্রটি অনঢ়। অর্ধেক মানে ১৫ টাকাই। শোরগোল হলো। ঠ্যালায় পড়ে ১৫ টাকা নিতে রাজি হলেন কন্ডাক্টর। এসব দেখতে দেখতেই বাস এলো সাতরাস্তায়। যানজটের নগরীতে কর্মদিবসে দয়াগঞ্জ থেকে পল্টন ভায়া হয়ে সাতরাস্তা পৌঁছতে প্রায়ই ২ ঘণ্টা লেগে যায়। দয়াগঞ্জ থেকে পল্টন ৩ কিলোমিটার। সড়কের বঙ্গবভন থেকে জিরো পয়েন্টে যেতেই মাঝেমধ্যে ৪০ মিনিট লাগে। হেঁটে ৫ মিনিট। আবার মৌচাক মোড় থেকে মগবাজার মোড় পার হতে প্রায়ই ৪০ মিনিট লাগে। হেঁটে এটাও ৫ মিনিটের পথ।
দয়াগঞ্জ থেকে সাতরাস্তায় ৮০ মিনিটে হেঁটে আসার অভিজ্ঞতা আমার ঝুলিতে আছে। এই রুটে দুটি স্থানে ৮০ মিনিট বাসে বসে বিরক্ত না হয়ে হাঁটলে কেমন হয়- এটাই ভাবছি!