জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনকারী বেশ কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

বিকেল তিনটার দিকে জাদুঘরের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা’র ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শ্রমিক কৃষক ছাত্র জনতা ঐক্যের সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি.ডি রহমতুল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় লীগের কার্যনির্বাহী সভাপতি ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা, স্বদেশী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাখাওয়াত রহমতুল্লাহ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের পাঠচক্র ফোরামের সদস্য জালাল চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব ইসমাইল সম্রাট, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নাইমুল ইসলাম নাইম, সাবেক শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ইজিবাইক চালক আব্দুর রহিম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট রাত ১১টা থেকে সরকার কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি তেলের মূল্য ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩৭ ডলার থেকে কমে গিয়ে ৯০ ডলারে এসে ঠেকেছে। কিন্তু এদেশে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার আরও বলছে যে, এদেশে তেলের দাম কম বলে তা ভারতে পাচার হয়ে যায়। অথচ সীমান্ত রক্ষায় বাহিনী রয়েছে। সরকার নিজেদের যুক্তি দাঁড় করাতে একটা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

তারা বলেন, ‘সরকারের লুটপাটের কারণে ফান্ডগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে, রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। গত ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ৮৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এভাবেই সরকার বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে তাদের লুটপাট হালাল করার চেষ্টা করছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এক হয়ে সরকারকে এই গণ বিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলে বাধ্য করতে হবে।’ এ সময় তারা ছাত্র নেতাদের নামে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ খালি থালা হাতে ‘ভুখা মিছিল’ বের করে। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু করে কাঁটাবন মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ পেরিয়ে রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শাহবাগে যাওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ তাতে বাধা দেয়। অবশেষে পুলিশের পাহারায় মিছিলটি জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে গণগ্রন্থার হয়ে শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জাদুঘরের সামনে এসে শেষ হয়।

একই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবিতে গণগ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করে ‘গণতান্ত্রিক সমাবেশ’। মৌলিক বাংলার সভাপতি মো. শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব আহমেদের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক সমাবেশের সদস্য সৌরভ আহমেদ বিল্লাল, সালেহ আহমেদ পিয়াল প্রমুখ।

এর আগে, দুপুরে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ‘বাংলাদেশ জনতার সংসদ (বাজস)’। বাজস সভাপতি মাহফুজুর রহমান শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতুল্লাহ, রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট দর্পণ জামিল, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এল্টন চাকমা প্রমুখ।

ঢাবিতে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহর নাগরিক সমাবেশ:

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য বাতিল এবং ছাত্র নেতাদের নামে করা পুলিশের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিকেল সাড়ে চারটায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নাগরিক সমাবেশ করে ‘প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ’। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন জয়ের সভাপতিত্বে এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি.ডি রহমতুল্লাহ, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে মধুর ক্যান্টিন প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।