বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পালন করেছে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ। প্রতিটি পক্ষের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে পালিত হলেও এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে। আগস্টের বিশেষ এই আয়োজন একসঙ্গে পালন করতে না পারায় বিব্রত দলের অনেক দায়িত্বশীলও।

সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক এম এনামুল কবির ইমন এবং সহসভাপতি নোমান বখ্‌ত পলিনের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পৃথক তিনটি পক্ষ শোক মিছিল ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করে।

স্থানীয় রমিজ বিপণির কার্যালয় থেকে বের হওয়া শোক মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের নেতৃত্বে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উকিলপাড়ার শোক মিছিলের নেতৃত্ব দেন সাধারণ সম্পাদক এম এনামুল কবির ইমন। এই মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নান্টু রায়, হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুবীর তালুকদার বাপ্টু, কোষাধ্যক্ষ ইশতিয়াক শামীমসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন। অন্যদিকে সহসভাপতি নোমান বখ্‌ত পলিনের নেতৃত্বে পৌরসভা চত্বর থেকে বের হওয়া শোক মিছিলে অংশ নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম ও চান মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আহমদ নুর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুয়েব চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুমন বখ্‌তসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

সম্পাদক এম এনামুল কবির ইমন জানান, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি একসঙ্গে পালনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সবাইকে জানানো হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে কর্মসূচি পালন সংগঠনকে দুর্বল করার প্রয়াস।

সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের ভাষ্য, কর্মসূচি একসঙ্গে পালনের জন্য সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাড়া না পাওয়ায় আলাদা আয়োজন করেছেন।

তবে সহসভাপতি নোমান বখ্‌ত পলিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কোনো সভা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। কর্মসূচিও আমাকে জানানো হয়নি। কোনো আয়োজনে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। তাই নিজ উদ্যোগে আয়োজন করেছি।

এ পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবির রুমেন বললেন, দলে বিভক্তি আছে, ভিন্ন মত আছে। কোনো কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন হলে কর্মীরা বেশ বিপাকে পড়েন। তবে জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি অন্তত আলোচনা করে একসঙ্গে করা গেলে ভালো হতো। পৃথক তিন কর্মসূচির জন্য শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যেতে অনেকে বিব্রত হয়েছেন।