রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় ক্রেন থেকে পড়া বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডারে চাপা পড়া প্রাইভেটকারে থাকা নবদম্পতি জীবিত আছেন। তবে, এ ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। জসীমউদ্দীন রোডের মোড়ে বিপণিবিতান আড়ংয়ের সামনেই আহাজারি করছেন নিহতদের স্বজনরা। স্বজনদের কান্নার রোল, যা আশপাশের সবাইকে ভারাক্রান্ত করছিল। 

সোমবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে প্যারাডাইস ভবনের সামনের রাস্তায় বিআরটি প্রকল্পের কাজের একটি গার্ডার প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে পাঁচজন নিহত হন। 

স্বজনেরা জানান, রাজধানীর কাওলার বাসিন্দা মো. হৃদয়ের সঙ্গে আশুলিয়ার রিয়ামনির গত শনিবার বিয়ে হয়। আজ ছিল হৃদয়ের কাওলার বাড়িতে বউভাত। অনুষ্ঠান শেষে হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা, শাশুড়ির বোন ঝরনা, ঝরনার ছেলে জাকারিয়া ও মেয়ে জান্নাতুল, হৃদয়, তার স্ত্রী রিয়ামনি ও হৃদয়ের বাবা সবুজ একটি প্রাইভেট কারে করে আশুলিয়ায় যাচ্ছিলেন। 

দুর্ঘটনায় ফাহিমা, ঝরনা, জান্নাতুল, জাকারিয়া ও হৃদয়ের বাবা সবুজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হৃদয় ও তার স্ত্রী রিয়ামনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হৃদয়ের খালাতো ভাই রাকিব আহাজারি করে বলছিলেন, ‘ও আল্লাহ, এইড্যা কী হইল। এতগুলা মানুষের কী দোষ আছিল। আমরা তো নিঃস্ব হইয়্যা গেলাম।’

স্বজনরা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'তারা রাস্তা দিয়ে ভালা কইরাই তো যাইতাছিল। তারপরও ক্যান এই পরিণতি হইল। এইড্যা কার দোষ। কার কাছে বিচার দিমু।’

তারা আফসোস করতে করতে বলেন, ‘মাত্র এক দিন আগে ভাইয়ের (হৃদয়) বিয়া হইছে। আমরা কত মজা করলাম। আইজকাও হাসিঠাট্টা করছি। এখন এই কষ্ট কই রাখি।’