সারাদেশে অব্যাহত নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের বিচার এবং গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ইয়াসমিন হত্যা দিবস পালন করেছে সমাজতান্ত্রি মহিলা ফোরাম। বুধবার '২৭ তম নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস' উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা। বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ সম্পাদক সেলিনা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি লাবনী বন্যা, ঢাকা নগর শাখার দপ্তর সম্পাদক সোহাগী সামিয়া প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ফোরামের ঢাকা নগরের সংগঠক সুস্মিতা মরিয়ম।

বক্তারা বলেন, 'ইয়াসমিনের ওপর সংগঠিত বর্বরোচিত ঘটনার পর কেটে গেছে ২৭ বছর। কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি বরং বেড়েছে ভয়াবহভাবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩২১ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন। একটি ঘটনা বর্বরতা বিভৎসতায় আরেকটিকে ছাড়িয়ে যায়। সমতলে-পাহাড়ে, ঘরে-বাইরে, পথে-গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্র-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন কোন স্থান নাই যেখানে নারী নিপীড়নের শিকার হয় নাই। বর্তমান সময়ে গণপরিবহন একটা আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীতে গণপরিবহনে গত ছয় মাসে ৬৩.৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত একমাসে কয়েকটি ধর্ষণের খবর পত্রিকাতেই এসেছে। সময় যত এগোচ্ছে ততই শিক্ষার্থী, কর্মজীবি বা গৃহিণী নারীর গণপরিবহন ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণপরিবহনে নিরাপত্তা না থাকলে নারীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। কিন্তু নারীর জন্য নিরাপদ গণপরিবহন এর দাবি বারবার অবহেলিত হচ্ছে সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। এমনকি গণপরিবহনে ঘটে যাওয়া কোন নির্যাতনের উল্লেখযোগ্য কোনও বিচারও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।'

নারী শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন বলে মনে করেন বক্তারা। তাঁরা ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট ইয়াসমিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাতে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত ও হত্যার শিকার হয়েছিল। পরেরদিন দিনাজপুরে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে ৭ জন সংগ্রামী মানুষকে। এরপর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কোন অপচেষ্টাই আন্দোলন নস্যাৎ করতে পারেনি। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে বিচারে ধর্ষক ও খুনিদের ফাঁসির রায় এবং ২০০৪ সালে তা কার্যকর হয়। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও বিচারের রায় মানুষের মনে এক প্রতিবাদী চেতনার জন্ম দেয়। এই আন্দোলন এবং হত্যার স্মরণে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস।