পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৩তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সরকারের মনস্তত্ত্বের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সত্ত্বেও এটি ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে 'বর্তমান প্রজন্মের ভাবনায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা' শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, পাহাড়ের আদিবাসীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হলেও সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সমতলের আদিবাসী ও সাধারণ বাঙালিদের অধিকারও নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের কারণে শান্তিচুক্তি ব্যাহত হচ্ছে। আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াইকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সবার এম এন লারমাকে পাঠ করা উচিত। এম এন লারমা অনেক আধুনিক ও দূরদর্শী চিন্তার মানুষ ছিলেন। শোষকের সুক্ষ্ম রাজনীতি তিনি বুঝতে পারতেন। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়।

দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশ শুধু বাঙালির একার নয়। এ দেশে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাওতালসহ অনেক জাতিসত্তার বসবাস। এই বোধটাই জাগাতে চেয়েছিলেন বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা। সেই বোধ জাগানোর সংগ্রাম এখনো অব্যাহত রয়েছে। আমাদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্কৃতি আছে। আলাদা জীবনবোধ আছে, আলাদা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় আছে, আবার মিলও আছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই সবচেয়ে বড় বিষয়। এটিই আমাদের প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের মনস্তত্ত্বের কারণে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমি সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, এম এন লারমার জীবন ও সংগ্রামকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়, যেন শোষণকে চলমান রাখা যায়। তার চেতনার বাস্তবায়ন তরুণদের মধ্যে ঘটানো হলে পাহাড়, বন দখল সম্ভব হতো না। আদিবাসীদের নিয়ে নানা লেখালেখি হলেও এম লারমার জীবনী নিয়ে কোথাও লেখা হয় না।

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি চিরান। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ সিং ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র দেব প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আন্তনী রেমা।