রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় রিকশা থেকে পড়ে আহত জিনিয়া ইসলাম জয়া ওরফে টুম্পা (২৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকালে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তাঁকে হত্যার অভিযোগ এনে মৃতের বন্ধু তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মৃতের স্বজন। ঘটনার সময় তিনিও রিকশায় ছিলেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া সমকালকে বলেন, জিনিয়ার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্নেষণের জন্য কিছুটা সময় লাগবে। তবে প্রাথমিকভাবে রিকশা থেকে তাঁর পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি পাওয়া গেছে। কিন্তু পাশে বসে থাকা কেউ ধাক্কা দিয়েছে কিনা- সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাদী যেহেতু মামলায় হত্যার অভিযোগ করেছেন, তাই আমরা এ ঘটনাকে হত্যা ধরেই তদন্ত করছি।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর বাসার সামনে রিকশা থেকে পড়ে যান জিনিয়া। ওই সময় তিনি তাঁর বন্ধু তানভীরের সঙ্গে নিউমার্কেট থেকে জিগাতলায় যাচ্ছিলেন। আহত হওয়ার পর তাঁকে ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুরু থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল গুরুতর। এ কারণে ঘটনার ব্যাপারে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গতকাল সকাল সোয়া ৭টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর পর ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ তাঁর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

মৃতের ভাই আতিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর বর্তমানে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জিনিয়া। তিনি জিগাতলা এলাকার গাবতলা মসজিদের পাশে একটি মেসে থাকতেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকায়। গতকাল সেখানেই জিনিয়ার লাশ দাফন করা হয়। বোনের মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি হত্যাকাণ্ড মনে করছেন এবং সে জন্য দায়ী তানভীরের বিচার চান।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার তানভীর একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে জিনিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পূর্ণ তদন্ত ছাড়া কোনো বিষয়েই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।