রাজধানীর মিরপুরে খেলার মাঠকে প্লট বানিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় শত শত বাসিন্দা। বরাদ্দ বাতিল করে তারা মাঠটি রক্ষার দাবিতে মাঠের পাশের রাস্তায় সংবাদ সম্মেলনও করেন। বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এই মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, ১৯৬৩ সালের মহাপরিকল্পনায় মিরপুর ১১ নম্বরের প্যারিস রোড সংলগ্ন প্রায় দেড় একরের ওই জায়গাটি মাঠ হিসেবে চিহ্নিত। ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানেও এটাকে মাঠ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পূর্তমন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রভাব খাটিয়ে মাঠটিকে প্লট বানিয়ে ৩২ জনকে বরাদ্দ দেন। বরাদ্দপ্রাপ্তদের সবাই জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। এরপর থেকেই বরাদ্দপ্রাপ্তরা সেখানে ভবন তোলার চেষ্টা করে আসছিল। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা পেরে ওঠেনি। সাবেক পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আনিসুল হক, বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামসহ অনেকে বিভিন্ন সময় মাঠটি পরিদর্শন করে সেটাকে মাঠ হিসেবেই রক্ষার জন্য পূর্ণ সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদও মাঠটি ডিএনসিসির অনুকূলে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। সম্প্রতি কয়েকজন বরাদ্দপ্রাপ্ত মাঠটিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হন।

জহিরুল ইসলাম মানিক আরও বলেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ লক্ষাধিক মানুষের বিপরীতে এই মাঠটি ছাড়া আর কোনো খেলার মাঠ নেই। খেলার মাঠের অভাবে শিশু-কিশোররা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। মাঠটি রক্ষা করা গেলে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, খেলাধুলা, বিভিন্ন বয়সী মানুষের শরীর চর্চা ও হাঁটা-চলাফেরার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া মাঠটিতে নানা ধরনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা যাবে। এ অবস্থায় বরাদ্দ বাতিল করে মাঠটি রক্ষা করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার আলফাজ, মিরপুর সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, মিরপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য ফোরামের সহসভাপতি রেজাউল করিম, উদ্যোগী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জহির মোহাম্মদ হারুন, আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আশরাফুন্নেসা পারুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। মাঠ রক্ষার দাবিতে তাদেরকে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠটির পশ্চিম দিকে কিছু ইট পড়ে আছে। আর মাঠের চারপাশে ছোটখাটো স্থাপনা ও নানা আবর্জনা-জঙ্গলে ভরা।