রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে কর্তব্যরত অবস্থায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সাইফুল ইসলামকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, বিডিএস কোর্সের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছাত্ররা এই হামলা চালায়। পরে তাকেই উল্টো সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনার পর গুরুতর আহত ওই টেকনোলজিস্টকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত বুধবার তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে এপোডনশিয়া কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছাত্রদের ৪০-৫০ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে রোগীদের বের করে দেন। এরপর কক্ষের দরজা বন্ধ করে বিনা অপরাধে তাকে এলোপাতারি কিল-ঘুষি-লাথি মারেন। চেয়ার দিয়েও তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা, নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত বের হয় এবং জামাকাপড় ও মেঝে ভিজে যায়। তখন এপেডনশিয়া কক্ষে থাকা হাসপাতালের অপর দুই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রুবাইয়াত হক ও সুজিত চন্দ্র দেবনাথও মারধরের শিকার হন। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে ম্যাপিলোফেসিয়াল সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিনের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডেন্টাল ইউনিট প্রধান ডা. শফিকুল ইসলাম ও ডা. বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। কোনো অপরাধ না থাকলেও সবার সামনে তাদের তিনজনকে ডা. বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের পা ধরে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয়। তারপর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে কোনোরকম ড্রেসিং ও সেলাই করানোর ব্যবস্থা করেন। বাসায় ফেরার পর সাইফুলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল ভোরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাইফুল। অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান এবং ডা. বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে কল করা হলে তারা রিসিভ করেননি।