দুবাইতে একটি শপিংমলে চাকরি করেন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা বারেক মিয়া। কিছুদিন আগে এক মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। গত রোববার তাঁর দুবাই ফেরার তারিখ ছিল। এ কারণে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনাও দেন তিনি। পথে যানজটের কারণে লম্বা সময় রাস্তায় আটকা পড়ে থাকতে হয় তাঁকে। তিনি সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছতে না পারলেও নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ছেড়ে যায় ফ্লাইট। এ ঘটনা শুধু বারেকের নয়, তাঁর মতো যানজটের কবলে পড়ে সময়মতো ফ্লাইট ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন অনেক যাত্রী। ভুক্তভোগীরা জানান, সময়মতো ফ্লাইট ধরতে প্রবাসী যাত্রীদের ভরসা এখন বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থিত ডরমিটরি।

প্রবাসী যাত্রীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে খিলক্ষেত এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার (ডরমিটরি)। বিদেশগামী বা ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীরা নামমাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে সরাসরি বা অনলাইনে সিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেন্টারে প্রতি রাতে অবস্থানের জন্য একজন যাত্রীর খরচ মাত্র ২০০ টাকা। প্রতিবার সর্বোচ্চ দুই রাত অবস্থান করা যাবে। বিমানবন্দর যাতায়াতে বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীর জন্য রয়েছে সেন্টারের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে খিলক্ষেতের বরুয়া লঞ্জনীপাড়ায় ১৬০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এই বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার।

সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুল্লাহ বাহার সমকালকে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা প্রবাসী যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ধরতে এক-দুই দিন আগে থেকে এখানে অবস্থান করতে পারেন। সেন্টারে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪৯ জন যাত্রী অবস্থান করতে পারবেন। প্রবাসী যাত্রীরা নামমাত্র ১০০ টাকা ফি জমা দিয়ে ২০০ টাকায় রাত যাপনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া তাঁদের সেন্টারের নিজস্ব পরিবহনে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সকালে ৬০ টাকায় নাশতা এবং দুপুর ও রাতে ১২০ টাকায় খাবার পাওয়া যাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সহকারী আতিকুর রহমান জানান, দিন দিন বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে প্রবাসী যাত্রীর চাপ বাড়ছে। ফ্লাইটের যাত্রী ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী এখানে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবে যাত্রীর সঙ্গে আসা স্বজনদের মধ্যে শুধু একজন থাকতে পারবেন। অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন- পাসপোর্ট, এয়ার টিকিটের কপি, বহির্গমন ছাড়পত্র বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মেম্বারশিপ সনদের কপিসহ সংশ্নিষ্ট কাগজপত্র থাকতে হবে। ডরমিটরিতে প্রাথমিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ব্যাপারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার থাকায় প্রবাসী যাত্রীরা সময়মতো ফ্লাইট ধরতে পারছেন। এই সুবিধার ব্যাপারে অনেক প্রবাসীই জানেন না। খবরটি ভালোভাবে প্রচার করা হলে আমাদের প্রবাসীরা উপকৃত হবেন।