রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসা থেকে গত শুক্রবার ফজল মিয়া নামের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগেই তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের পঞ্চম স্ত্রী ফাতেমা বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্য দু'জন হলেন ফাতেমার আগের স্বামী গাজী রহমান ও তাঁদের ১৩ বছরের মেয়ে। তাঁরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

সোমবার পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. জাফর হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুনের আগে ফজলকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আসামিরা।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ফজল মিয়া ও ফাতেমার আগের স্বামী গাজী রহমান মোহাম্মদপুর এলাকায় একসঙ্গে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। সে সুবাদে ফাতেমার সঙ্গে ফজলের পরিচয় হয়। বছর দুয়েক আগে গাজী রহমান বাসা থেকে চলে যান। পরে ফাতেমাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিয়ে করেন ফজল।

পুলিশ আরও জানায়, ফাতেমার আগের সংসারের দুই মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেন ফজল। ফলে প্রতিশোধ নিতেই আগের স্বামীর সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাঁকে হত্যা করে পালিয়ে যান তাঁরা। পরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচর থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। ওই দিনই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সাজু মিয়া হত্যা মামলা করেন। গত শনিবার শেরপুর থেকে ফাতেমা ও তাঁর মেয়েকে এবং ঢাকা থেকে রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।