রাজধানী ঢাকার বাজারে মোমবাতির সংকট দেখা দিয়েছে। ১০ টাকার মোমবাতি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার পর রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় বাড়তি দাম দিয়েও মোমবাতি পাওয়া যায়নি। দোকানিরা বলছেন, মজুত শেষ।

জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ে মঙ্গলবার দুপুর দুইটা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ও বিদ্যুৎ আসেনি। ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও রাজধানীর পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিগাতলার বাসিন্দা মারজিয়া আলী ফিজ্জা সমকালকে জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে ট্যানারি মোড়সহ জিগাতলার বিভিন্ন এলাকার দোকান ঘুরেও মোমবাতি পাননি। কোনো দোকানেই মোমবাতি নেই।

ট্যানারি মোড়ের পাইকারি দোকান আমানউল্লাহ স্টোরের মালিক মো. আরমান হোসেন জানিয়েছেন, চার্জার লাইটের প্রচলনের কারণে আজকাল কোনো দোকানে মোমবাতির খুব বেশি মজুত থাকে না। তাঁর দোকানে ৩০-৩৫ ডজন মোমবাতি ছিল। মঙ্গলবার বিকেল তিনটা থেকেই মোমবাতির জন্য ক্রেতার লাইন তৈরি হয়। এক ঘণ্টায় সব মোমবাতি বিক্রি হয়ে গেছে। ১০০ থেকে ১১০ ডজন দরে মোমবাতি বিক্রি করেছেন। বিকেল চারটা নাগাদ সব মোমবাতি বিক্রি হয়ে গেছে।

কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের দোকানি মো. আসাদ সমকালকে জানান, প্রতি মোমবাতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। শ' খানেক মোমবাতি ছিল তাঁর দোকানে। বিকেল চারটার আগে সব বিক্রি হয়ে গেছে। অন্য সময়ে প্রতি মোমবাতি ১০ টাকা দামে বিক্রি করতেন। তার ভাষ্য, কোনো কোনো দোকানে ২০-৩০ টাকা দামে প্রতিটি মোমবাতি বিক্রি করা হয়েছে।

মোমবাতির সংকট তৈরি হয়েছে চার্জার বাতিতেও। জিগাতলার মেসার্স আল নূর ইলেক্ট্রিক্যালের মালিক মো. ওবায়দুল্লাহ জানিয়েছেন, ৭০-৮০ টাকা দরে ছোট চার্জার লাইট বিক্রি করতেন। বড় চার্জার লাইটের দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। ২০-২২টি ছোট লাইট ছিল। সব বিক্রি হয়ে গেছে। সেগুলো দোকানে চার্জ দেওয়া অবস্থায় ছিল। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা আলো দেবে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় বড় চার্জার বাতি বিক্রি হচ্ছে না।