রাজধানীর সাইন্সল্যাব বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার সায়েন্স ল্যাবরেটরির মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রগতিশীল গবেষকদের নিয়ে এ কমিটি গঠিত হয়। সায়েন্স ল্যাবরেটরির বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) হলরুমে সম্মেলনের মাধ্যমে ড. মালা খান সভাপতি এবং ড. স্বপন রায়কে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ড. মো. শাহরিয়ার বাসার সহসভাপতি, মাহমুদুল হাসান রাজু যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মো. মশিউর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল এক প্রতিভার নাম। যিনি রাজনীতিকে নিয়ে এসেছিলেন শিল্পের পর্যায়ে। তিনি এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর দেশের বিস্ময়কর সাফল্যের কারিগর হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রকৃত স্বপ্নদ্রষ্টা। স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি সারাজীবন লড়াই করে গেছেন। স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য যে পথ বেছে নিয়েছিলেন তা একজন সুদূরপ্রসারী দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন প্রকৃত দার্শনিকের পক্ষেই সম্ভব। বাংলার স্বাধীনতার যে স্বপ্ন তিনি বুকে লালন করতেন তা বাস্তবে রূপ দিতে যে পরিকল্পনার দরকার তা তিনি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিতে দ্বিধা করেননি, ভুলও করেননি। এই কারণেই বঙ্গবন্ধু বিশ্ব সভায় বাঙালি জাতিকে সম্মানিত করতে পেরেছেন। 

বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বচিন্তা ও বৈশ্বিক নেতৃত্বগুণ তুলে ধরতে তার সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা আজ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। এই প্রসঙ্গেও তিনি ভারত সরকার কর্তৃক নিমন্ত্রণের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে দেশের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় নবগঠিত কমিটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ওয়াহিদুজ্জামান (মিন্টু), নির্মল বিশ্বাস, যুব ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. হাসানুজ্জামান খান কাজল, তপন কুমার সরকার। উপস্থিত ছিলেন মনিরুল ইসলাম খান, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আওয়াল হোসেন, প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান ও সাব্বির হোসেন প্রমুখ।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি ড. মালা খান বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন, নীতি, আদর্শ, কর্ম ও নেতৃত্বের বহুমাত্রিক গুণাবলির মধ্যে নিহিত রয়েছে আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হওয়ার সব উপাদান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতির পিতার আদর্শের রাজনৈতিক ভিত্তির সঙ্গে এই মেলবন্ধন প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নবগঠিত এই কমিটি কাজ করে যাবে।

সম্মেলনে সভা সঞ্চালনায় ছিলেন ড. প্রণব কর্মকার। নবগঠিত কমিটি সেখানে উপস্থিত ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বিসিএসআইআর ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।