পুরান ঢাকার চকবাজারে নিজ বাড়িতে গৃহকর্তা হাজি মনসুর আহমেদ হত্যার ঘটনাটি এখনও রহস্যাবৃত। কে বা কারা কেন তাঁকে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত-সংশ্নিষ্টদের ধারণা, এটি অপেশাদার অপরাধীর কাজ। চুরি বা ডাকাতি করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড কিনা তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। এদিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া ইনজেকশন সিরিঞ্জটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। স্বজনের ধারণা, হত্যার আগে ওই সিরিঞ্জ দিয়ে চেতনানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার জাফর হোসেন সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে সংঘবদ্ধ অপরাধ মনে হয়নি। নিজেদের মধ্যে বা পরিচিত কেউ এটা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ওই সময় বাড়ির লোকজন বিয়েতে গেছেন- এটা খুনির জানা ছিল। জোর-জবরদস্তি করে ঘরে ঢোকার কোনো আলামত মেলেনি।
বৃহস্পতিবার রাতে চকবাজারের খাজে দেওয়ান লেনের ৬৯/২ নম্বর বাড়িতে খুন হন ৭০ বছর বয়সী মনসুর আহমেদ। নিজের মালিকানাধীন ছয়তলা বাড়িটির দোতলায় থাকতেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই গিয়েছিলেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে।

মৃতের ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা সারোয়ার আহমেদ বলেন, 'বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে যখন আমরা বিয়েতে যাই, তখন আব্বা সুস্থ ছিলেন। তখন তিনি লুঙ্গি পরা ছিলেন। আনুমানিক দুই ঘণ্টা পর যখন আমরা ফিরে আসি, তখন তিনি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়েছিলেন। পরনে ছিল পায়জামা। তিনি হয়তো বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এর মধ্যে কে তাঁকে খুন করল বুঝতে পারছি না। বাড়িতে তেমন কোনো টাকা-গহনাও ছিল না। আব্বার ঘরে তাঁর ও আম্মার সঞ্চিত ৪-৫ লাখ টাকা থাকতে পারে। আর আমার স্ত্রীর সাত-আট ভরি গহনা রাখা ছিল। এগুলো লুট করতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে খুন করা হতে পারে।'

এ ঘটনার আগে বিভিন্ন সময়ে সারোয়ার বাড়ির সামনের গলির চা দোকানে সিগারেট ফুঁকতে থাকা তরুণদের মৃদু বকুনি দিয়েছেন।
ডিবির তদন্ত-সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সুযোগসন্ধানী কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে, যে পরিবারের সদস্যদের বিয়েতে যাওয়ার বিষয়টি জানত।
চকবাজার থানার ওসি আবদুল কাইয়ুম বলেন, বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। আশপাশে থেকে ফুটেজ পাওয়া যায় কিনা চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।