রাজধানীর চকবাজারের বাইতুন নূর মসজিদের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদ (৭৮) খুন হয়েছেন স্বজনের হাতে। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার টাকার জন্য নানার বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল তাঁর নাতি ও নাতনি। গত ১৭ নভেম্বর রাতে চকবাজারের খাজে দেওয়ান লেনের বাড়িতে ডাকাতির সময় বাধা দিলে মুনসুরকে হত্যা করে তারা।

নাতি-নাতনিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। রাজধানীর চকবাজার, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর থেকে গত মঙ্গলবার ও বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চকবাজার মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- নিহতের নাতি শাহাদাত মুবিন আলভী (২০), নাতনি আনিকা তাবাসসুম (২৩) এবং তাদের বন্ধু রাজু (২২), রায়হান (২০) ও সাঈদ (২০)।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, মুনসুর হত্যার স্থানে একটি সিরিঞ্জ পাওয়া যায়। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে ওই বাসার আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। পরে এ ঘটনায় নিহতের নাতি-নাতনিকে চকবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর থেকে তাদের বন্ধু রাজু, রায়হান ও সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যার কারণ সম্পর্কে বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, মুনসুরের নাতি-নাতনি ও বন্ধুরা মিলে প্রায় এক মাস আগে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। টাকার জন্য তারা নানা মুনসুরকে টার্গেট করে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ১৭ নভেম্বর মুনসুরকে বাসায় রেখে পরিবারের সবাই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। ওই সময় আসামিরা আগে থেকে বানিয়ে রাখা নকল চাবি দিয়ে বাসায় ঢোকে। এরপর তারা ঘর থেকে টাকা নিতে চাইলে বাধা দেন মুনসুর। ওই সময় আসামিরা তাঁর শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে অচেতন করার ওষুধ পুশ করে এবং মাথায় আঘাত করে। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে আসামিরা টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৯ নভেম্বর নিহতের ছেলে আসগর আহমেদ চকবাজার থানায় দস্যুতাসহ হত্যার মামলা করেন। চকবাজার মডেল থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মূলত ভ্রমণের টাকার জন্যই তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। ডাকাতির সময় মুনসুর বাধা দিলে মাথায় আঘাত এবং শরীরে অচেতন করার ওষুধ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়।