বাংলাদেশের অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীর সমর্থন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন কিংবা পর্তুগালকে ঘিরে আবর্তিত হয়। এর মধ্যে ব্রাজিল বাদে অন্য দলগুলো কাতার বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছিল। অপেক্ষা ছিল কেবল ব্রাজিলের মাঠে নামার। তাই ব্রাজিলের এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও ব্রাজিল সমর্থকরা যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ও জাপানের কাছে জার্মানির হারের পর সেই অপেক্ষা যেন আরও দীর্ঘ হয়ে উঠছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

বৃহস্পতিবার রাতে কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো সেলেসাওরা। সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এদিন জোড়া গোল করে দলকে দারুণ জয় উপহার দেন রিচার্লিসন। একইসঙ্গে অনিন্দ্য ফুটবলশৈলীতে আনন্দে ভাসিয়েছেন বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্রাজিলের সমর্থকদের।

প্রিয় দলের খেলা দেখতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হওয়া ব্রাজিল সমর্থকরাও সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি। কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের দুর্দান্ত জয়ে আনন্দে মেতে ওঠে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। নেচে-গেয়ে প্রিয় দলের জয় উদযাপন করেন তারা। ম্যাচজুড়ে রিচার্লিসনের ছড়ানো অনবদ্য দ্যুতিই যেন রাতের অন্ধকার ভেদ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

রেফারির শেষ বাঁশি পড়তেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। জয় উদযাপনে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে যেন কমতি ছিল না। ঢোল, বাঁশি নিয়ে হই হই রব তুলে সেলেসাওদের পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন নেইমারদের বাংলাদেশি সমর্থকরা। এছাড়া সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এবং জাপানের কাছে জার্মানির হারের পর প্রথম ম্যাচে সেলেসাওদের জয় ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে রীতিমতো বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

এদিকে ব্রাজিলের খেলা ঘিরে সন্ধ্যার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন সেলেসাও সমর্থকরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ভক্ত-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনের অংশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর খেলা শেষে জয়ের আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল সমর্থক শিবির। গলা ফাঁটানো ‘ব্রাজিল, ব্রাজিল’ চিৎকারে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন তারা।

ব্রাজিল সমর্থকরা বলেন, নান্দনিক ফুটবলের শৈল্পিক চমক দেখিয়েছে রিচার্লিসন। সার্বিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় এবং তাদের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।