স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

গতকাল বৃস্পতিবার বাজুসের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস।

বাজুসের প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশ নেয়। সভায় বিএফআইইউর উপপ্রধান ও পরিচালকসহ ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন এবং দুই আইনের বিধিমালার আওতায় থাকা সব সংস্থার দায়দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। বিএফআইইউ প্রধান বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে।

সভায় জানানো হয়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মূল্যবান ধাতু ও পাথর তথা স্বর্ণ চোরাচালানকে সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণকারী সুপারিশ এবং স্বর্ণ চোরাচালানে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি বিবেচনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মূল্যবান ধাতু বা পাথরের ব্যবসায়ীকে বিএফআইইউর রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় বাজুস সভাপতি বলেন, জুয়েলারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যেন মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত না হতে পারে, সে লক্ষ্যে সব জুয়েলারি ব্যবসায়ী সম্মিলিতভাবে কার্যক্রম হাতে নেবেন। তিনি আইনের আওতায় তাঁদের দায়দায়িত্ব ও নির্দেশনা পালনে বাজুস সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়াতে বিএফআইইউর সহযোগিতা কামনা করেন।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের সভাপতি বলেন, অর্থ পাচার ও ডলার সংকটের নেপথ্যে রয়েছে স্বর্ণ চোরাচালান। অনেকে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে।