বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সঞ্চয় বৃদ্ধি অথবা দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে হয়নি। দেশের মানুষের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের ভোগ বেড়ে যাওয়ায় এর জোগান দিতে উৎপাদন বেড়েছে এবং এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিস্ময়কর কিছু ঘটেনি। এই প্রবৃদ্ধি স্থায়ী হবে না। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফ্‌ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের উদ্যোগে সভায় এসব কথা বলা হয়।

'ইন্টার ডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ অন স্টেট বিল্ডিং অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন' শীর্ষক এই সভায় রাষ্ট্র গঠন ও রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সাতটি বই নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
'নাম্বার অ্যান্ড ন্যারেটিভস ইন বাংলাদেশে'স ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট' বইয়ের পর্যালোচনায় ঢাবি উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক এবিএম ওমর ফারুক বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৫০০ ডলার। আমাদের এশিয়ার নতুন টাইগার বলা হচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি সঞ্চয় অথবা বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে নয়। এর পেছনে চালিকাশক্তি হলো প্রান্তিক এলাকা থেকে দেশের বাইরে যাওয়া কর্মী এবং গার্মেন্ট কর্মী। তাঁদের আয় বেড়ে যাওয়ায় ভোগ বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠীর ভোগ বেড়ে যাওয়ার জোগান দিতে উৎপাদন বেড়েছে এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে। লেখককে উদ্ৃব্দত করে তিনি আরও বলেন, আমাদের এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সঞ্চয় বা বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে হলে আমরা এটিকে টাইগার অর্থনীতি বা ডেভেলপমেন্ট সারপ্রাইজ বলতে পারতাম। এটিকে মিরাকল বলা যায় না। দেশে পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ করা যায়নি। তাই এই প্রবৃদ্ধি কমে আসবে।
অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উন্নয়নে বিশ্বয়কর কিছু ঘটছে না। বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নের দিকে গেলে মিরাকল হতো। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য, জ্বালানির ভারসাম্যহীনতা ও আয়-ব্যয়ের সংকট আমরা দেখছি। একটি দেশ অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকলে যে কোনো বহিঃস্থ আঘাত সহ্য করতে পারে না। দেশে ক্ষমতা অর্থনীতির ফলাফলকে প্রভাবিত করে। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বৈরতান্ত্রিকতা তৈরি হয়। অর্থনৈতিক সংকট রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে আবার রাজনৈতিক সংকট অর্থনীতিতে সংকট তৈরি করে। এটি একটি ভয়ংকর বৃত্ত।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাত হলো কৃষি, গার্মেন্ট এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। এসব ক্ষেত্রে জড়িতদের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার।
এ ছাড়া সভায় ভার্চুয়াল জুমে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে পর্যালোচনা করেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েল মাহমুদ সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়েজিদ খান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষক শামী কামাল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মো. নেয়ামত আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার বুলবুল তন্ময় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জোবায়ের হোসাইন।