ডায়াবেটিক, বাত ও সোরিয়াসিসের মতো রোগের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বায়োলজিক ওষুধ। তবে এ জন্য চিকিৎসক, রোগী ও সংশ্নিষ্ট সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বায়োলজিক মেডিসিন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে দেশে প্রথম বায়োলজিক সামিটে এ মত দিয়েছেন বক্তারা।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নোভারটিসের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার এ সামিট হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বায়োলজিক মেডিসিনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক, ব্যবহারবিধি ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে এক্সপার্ট প্যানেল হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেসের কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান জেনারেল এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল অব মেডিকেল সার্ভিসেস মেজর জেনারেল অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম, ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ইউসুফ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক এবং দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। স্বাগত বক্তব্য দেন নোভারটিস বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রেসিডেন্ট ডা. রিয়াদ মামুন প্রধানী। বক্তা হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক শরীফ আখতারুজ্জামান ও নোভারটিস ফার্মাসিউটিক্যালস সুইজারল্যান্ডের সিনিয়র গ্লোবাল মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ড. প্যাট্রিসিয়া পারটেল।
অনুষ্ঠানে নোভারটিস বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মামুন বলেন, বায়োলজিক মেডিসিনগুলো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়ে থাকে। বায়োলজিক মেডিসিনই আগামী দিনে বহুল ব্যবহূত হবে। এর চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও উপকারিতা নিয়ে চিকিৎসক ও রোগীদের আরও সচেতনতা প্রয়োজন। বায়োলজিক দীর্ঘমেয়াদি ফলপ্রসূ চিকিৎসা, তবে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের বিভিন্ন অংশীজন এগিয়ে এলে আমাদের দেশে আরও বিস্তৃত পরিসরে এ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
বায়োলজিক ওষুধের ব্যবহার শুরু ১৯ শতকে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন রোগে লাখ লাখ মানুষ এ সেবা নিচ্ছেন। বাংলাদেশে এ চিকিৎসা প্রথম ব্যবহার হয় ২০০০ সালের শুরুতে। গত দুই দশকে চিকিৎসা জগতে আসা বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে বায়োলজিপ ব্যবহারের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল। সারাবিশ্বের চিকিৎসকরা বায়োলজিক ওষুধ ব্যবহার করছেন। তবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশে এর ব্যবহার এখনও সীমিত। বায়োলজিক ওষুধগুলো ভালোভাবে বোঝা, চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা এবং বাংলাদেশকে আগামী দিনে বায়োলজিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করাই এ সামিটের লক্ষ্য।