ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

চলার পথে ফের বন্ধ মেট্রোরেল

চলার পথে ফের বন্ধ মেট্রোরেল

.

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:৪৮

মাত্র ১২ দিনের ফারাক। এর মধ্যেই গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো বিঘ্নিত হয়েছে মেট্রোরেলের চলাচল। যাত্রা বিঘ্নিত হলেও অন্য দেশের মতো ভাড়ার টাকা ফেরত দিচ্ছে না ঢাকার মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। গতকাল প্রায় দেড় ঘণ্টা চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের ভেতর এবং স্টেশনে স্টেশনে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।  

কর্তৃপক্ষ শুরুতে দাবি করেছিল, যাত্রীরা জরুরি সুইচ টেপায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএলের এম এ এন ছিদ্দিক সমকালকে জানান, কী কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে তা খুঁজতে তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। 

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের কারণে গতকাল সকাল থেকেই যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ ছিল মেট্রোরেলে। যাত্রীর চাপে দুপুর ১২টার পর উত্তরার উত্তর (দিয়াবাড়ী) স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ওই স্টেশনের নিচে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অন্য স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় টিকিটের ভেন্ডিং মেশিনের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি ছিল। 

এ অবস্থার মধ্যে গতকাল দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে হঠাৎ চলন্ত ট্রেনগুলো থেমে যায়। সাংবাদিক কামাল মোশাররফ সমকালকে জানান, মিরপুর ১১ নম্বর স্টেশন থেকে প্রেস ক্লাব যাচ্ছিলেন তিনি। শেওড়াপাড়া স্টেশনের আগে ট্রেন থামে। ট্রেনটি তখন যাত্রীবোঝাই ছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ট্রেন ফের যাত্রা করে। অধিকাংশ যাত্রী বিরক্ত হয়ে নেমে যান। তারা বাকি পথের ভাড়া ফেরত পাননি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁও স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো যাত্রী ট্রেন চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন। ৩টা ৪২ মিনিটে স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ডে ট্রেন বন্ধের কারণ হিসেবে লেখা ছিল, ‘জরুরি থামার বোতাম টেপা হয়েছিল।’ ডিএমটিসিএলের সূত্রগুলো সে সময় দাবি করছিল, উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী পরপর দুটি ট্রেনে দু’জন যাত্রী ইমার্জেন্সি সুইচে চাপ দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 
তবে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইলেকট্রিক্যাল) মীর মনজুর রহিম বলেন, বেলা পৌনে ৩টার দিকে উত্তরা সাউথ থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। 

কী কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছিল, তা বলেননি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, কারণ অনুসন্ধান করবে কমিটি। 

আগারগাঁও স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসা যাত্রী মোজাম্মেল হক বাবুল জানান, দিয়াবাড়ী যেতে ৬০ টাকায় টিকিট কিনেছিলেন। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ট্রেন না পেয়ে টিকিট ফেরত দিয়ে নেমে এসেছেন, কিন্তু টাকা ফেরত পাননি। কাওসার হোসেন দিপু নামের আরেক যাত্রী শেওড়াপাড়া স্টেশন থাকে নেমে জানান, পল্লবী থেকে মতিঝিল যেতে ৮০ টাকায় টিকিট কিনেছিলেন। ট্রেন আটকে থাকায় নেমে যাচ্ছেন। মাত্র ২০ টাকার পথ পাড়ি দিয়েছেন। বাকি টাকা ফেরত পাননি। মেট্রোরেল যদি লোকাল বাসের মতো আচরণ করে, তাহলে কী লাভ হলো? দ্রুত যাতায়াতের জন্যই বেশি টাকা দিয়ে মেট্রো ব্যবহার করি। 
অন্য দেশে মেট্রোরেল চলাচল বিঘ্নিত হলে যাত্রীরা ভাড়ার টাকা ফেরত পান। কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে। তবে বাংলাদেশে তা হয় না কেন– এ প্রশ্নে এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ডিএমটিসিএল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলে। ট্রেন পথিমধ্যে থেমে গেলেও তা স্টেশন পর্যন্ত এনে দরজা খুলে দেওয়া হয়। যাত্রীকে অপশন দেওয়া হয়, তারা চাইলে নেমে যেতে পারেন। কিংবা অপেক্ষা করতে পারেন। যাত্রীরা নেমে চলে গেলে ভাড়ার টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ কোথাও নেই। 

এর আগে আখেরি মোনাজাতফেরত যাত্রীর চাপ সামলাতে না পেরে মেট্রোরেলের দিয়াবাড়ী স্টেশনের ফটক এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তা খোলা হয়। 
মেট্রোরেলে ওভারহেডে (বৈদ্যুতিক সংযোগ) ডিশের তার পড়ায় গত ২৩ জানুয়ারি প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। 


 

আরও পড়ুন

×