ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মর্গে শুয়ে ‘ঘুমন্ত’ পরী

মর্গে শুয়ে ‘ঘুমন্ত’ পরী

ফাইল ফটো

রাজীব আহাম্মদ 

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪ | ২১:৪৮ | আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৪ | ২২:০০

বয়স ৩ থেকে ৪ বছর। পায়ে জুতা নেই, গোলাপি মোজা পরা। পরনের নীল জিন্সে সাদা রঙে ভালোবাসার চিহ্ন। গায়ে নতুন ধূসর রঙের ফুল তোলা গেঞ্জি। যত্নে বাঁধা চুলের ঝুঁটি আলুথালু হয়ে আছে। পোশাকে, শরীরে লেগে রয়েছে ছাইয়ের চিহ্ন। যেন ফুটফুটে এক পরী ধুলামাটিতে খেলে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে! তবে সাজানো-গোছানো বিছানায় নয়, শুয়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের মেঝেতে। নাম-পরিচয় অজানা। তাই বুকে ঝোলানো কাগজে লেখা অজ্ঞাতনামা। শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই মেয়েশিশুর মরদেহ কেউ নিতে আসেনি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবন গ্রিন কোজিতে আগুনের ঘটনায় শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মর্গে শিশুর পাশে শুইয়ে রাখা হয়েছে এক নারীসহ আরও তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ। প্রায় ৪০ বছর বয়সী ওই নারীর দেহ গ্রামীণ চেকের চাদরে ঢাকা থাকলেও শিশুদেহ খোলা ছিল। ওই নারীর পরনে রয়েছে লাল জামা ও হলুদ সালোয়ার-কামিজ। শিশুটি বাম পায়ের মোজা আধখোলা। ঝুঁটি বাঁধা রয়েছে নীল রাবার ব্যান্ডে।

ধারণা করা হচ্ছে, নারী ও শিশু সম্পর্কে মা-মেয়ে কিংবা আত্মীয়। দেখে মনে হয়, রেস্টুরেন্টে খেতে বা বেড়াতে বের হয়েছিলেন তারা। ফরেনসিক বিভাগের কর্মীরা শিশুর মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। তা পরীক্ষার পর বলা যাবে, তারা মা-মেয়ে কিনা।

ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেছেন, কেউ তাদের মরদেহ নিতে আসেননি। দাবিও জানাননি। তাদের চেহারায় মিল আছে। অনুমান করছি তারা মা-মেয়ে। 

মর্গে আসা স্বজন ও সাধারণ মানুষ শিশুটির মরদেহ দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। শিশুটির ডান হাতে ছাইয়ের দাগ রয়েছে। তবে শরীরের কোনো অংশ পোড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়ায় আটকে পড়ে অক্সিজেন স্বল্পতায় শিশুটি মারা গেছে। পাশে থাকা নারীর মরদেহও পোড়েনি। তাঁর মুখমণ্ডলে ছাইয়ের দাগ রয়েছে। তাদের মরদেহ গ্রিন কোজির কত তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

মর্গের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন সমকালকে বলেন, ফুটফুটে মেয়েটির বয়স ৩ থেকে ৪ বছর হতে পারে। এখন পর্যন্ত ওই শিশুর স্বজন আসেনি। তাই অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি রাখা হয়েছে। দাবিদার না পাওয়া পর্যন্ত মর্গে থাকবে। পরে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে লাশ হস্তান্তরের কাজ করি। অনেক ঘটনা দেখেছি। তবে এমন ফুটফুটে  শিশুর লাশ পড়ে থাকতে দেখিনি। বুক ফেটে কান্না আসছে। যে দেখছে, সেই কাঁদছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের ভবনটিতে আগুন লাগে। অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৩৯ জনের মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরীর মতো শিশুটি রয়েছে মর্গের হিমঘরে। 

আরও পড়ুন

×