ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

আইন সংশোধন করে নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে ফিরতে হবে

সুজনের সংবাদ সম্মেলন

আইন সংশোধন করে নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে ফিরতে হবে

লোগো

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ০৬:১৪

আইন সংশোধন করে নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় ফেরার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সংগঠনটি মনে করে, এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। এদিকে সংগঠনের তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অন্যান্য নির্বাচনের মতো ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের নির্বাচনের বেশির ভাগ প্রার্থীর পেশাই ব্যবসা। 

বুধবার চলমান দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তারা আগেও দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের বিপক্ষে ছিলেন। কাজেই আইন সংশোধন করে আগের অবস্থায় নির্দলীয় নির্বাচনে ফিরে যাওয়া উচিত। নির্দলীয় বলতে শুধু দলের মনোনয়নবিহীন নয়। কোনো প্রার্থীকে কোনো দল সমর্থনও দিতে পারবে না। এখন বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগ কি নির্দলীয় প্রার্থী দিত? 

তিনি বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় যেসব তথ্য দেওয়া হয়, তার মধ্যে অনেকই সঠিক নয়। পুরো তথ্য অনেকেই তুলে ধরেন না। তবে হলফনামার এই ধারা অব্যাহত রাখলে একসময়ে এর সুফল পাওয়া যাবে। সবাই সচেতনভাবে নিজেদের তথ্য তুলে ধরবেন। তাতে ভোটাররা তাদের তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। 
তিনি বলেন, এমনিতেই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনেও সেই চিত্র এসেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যায়। এই নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীক ব্যবহার হলে স্থানীয়ভাবে যারা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন, কিন্তু জনপ্রিয়তা আছে বা ভালো মানুষ বলে পরিচিত, তারাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এতে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ে। এবার নির্দলীয় প্রতীকে হওয়া সত্ত্বেও কুমিল্লায় একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এতে নির্দলীয় প্রতীকের সুফল ব্যাহত হতে পারে। 

সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার লিখিত বক্তব্যে আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে ২২২ প্রার্থীর মধ্যে ৬৩.৫১ শতাংশের পেশা ব্যবসা। অন্যদের মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি গৃহিণী, ৫.৮৫ শতাংশের বেশি চাকরিজীবী, ৩.৬০ শতাংশ কৃষিজীবী এবং ১.৮০ শতাংশ আইনজীবী।

সুজন বলেছে, অন্যান্য নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। এ প্রবণতা নির্বাচনে অর্থের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষণ। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আধিক্য এবং অন্যান্য পেশার প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাওয়া ইতিবাচক নয় এবং তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও মঙ্গলজনক নয়।

সুজন বলছে, ময়মনসিংহ সিটির পাঁচ মেয়র প্রার্থীর কারও বিরুদ্ধেই কোনো মামলা নেই এবং অতীতেও ছিল না। কুমিল্লায় চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ময়মনসিংহে সাতজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহে দুই মেয়র প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার কম, দু’জনের ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে এবং একজনের ৫ কোটি টাকার বেশি। কুমিল্লায় চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে দু’জনের সম্পদ ১ থেকে ৫ কোটি টাকার মধ্যে, একজনের ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে এবং একজনের ৫ লাখ টাকার কম। 

ময়মনসিংহে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর (পিএইচডি), দু’জনের স্নাতক এবং দু’জন স্বশিক্ষিত। অন্যদিকে, কুমিল্লায়  চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক এবং একজনের এসএসসি। 

সুজন বলছে, আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রার্থীদের অনেকেই তা দেন না। ময়মনসিংহে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ইকরামুল হক ও রেজাউল হক আয়কর বিবরণী দিয়েছেন। এই সিটি নির্বাচনের ২২২ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশের আয়কর প্রদান-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আয়কর বিবরণী দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা অনেকেই মানেন না। এতে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কথা। জাতীয় নির্বাচনেও অনেকে আয়করের তথ্য দেননি। নির্বাচন কমিশন এগুলো খেয়াল করে না এবং এ নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

আরও পড়ুন

×