ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

দোকানের কর্মচারী থেকে শতকোটি টাকার মালিক

দোকানের কর্মচারী থেকে শতকোটি টাকার মালিক

.

 বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪ | ০০:৫২

রাজধানীর মিরপুরে একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী ছিলেন জয়নাল আবেদীন ইদ্রিস। তবে সেখানে থেমে থাকেননি তিনি। জালিয়াতির মাধ্যমে বদলে ফেলেছেন তাঁর জীবন। একই ফ্ল্যাটের বিপরীতে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। এ কাজে তাঁর অন্যতম সহযোগী দুই স্ত্রী রোমানা সিদ্দিক ও রাবেয়া আক্তার মুক্তা। প্রতারণার জন্য নিজ নামে ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করেন জয়নাল। এসব এনআইডি দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫০টির অধিক হিসাব খুলেছেন। 

প্রতারণার অর্থ দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাততলা বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি মিরপুর ও আশকোনায়ও রয়েছে তিনটি ফ্ল্যাট। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী মিয়া জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে জয়নাল, তাঁর সহযোগীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জয়নালের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। 

সিআইডিপ্রধান আরও জানান, এই চক্রের প্রধান হলেন জয়নাল। তাঁর প্রতিষ্ঠান রুমানা জুয়েলার্স ও নীড় এস্টেট প্রপার্টিজ লিমিটেডের ২৫ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে সিআইডি। এর পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁর প্রধান সহযোগী রাকিব হোসেন, ভায়রা মোস্তাফিজুর রহমান, জাল কাগজপত্র ও এনআইডি প্রস্তুতকারক লিটন মাহমুদ, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল তৈরিকারক হাবিবুর রহমান, ব্যাংক কর্মকর্তা হিরু মোল্যা, আবদুস সাত্তার ও সৈয়দ তারেক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এ মামলায় তিনজনকে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এই মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি তাদের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের কাছে গোপন তথ্য আসে, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন পরিদপ্তরের কিছু অসাধু সদস্যের সক্রিয় সহযোগিতায় ভুয়া এনআইডি ও টিন নম্বর তৈরি করছে। পরবর্তী সময়ে এসব ব্যবহার করে চক্রের সদস্যরা ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু লোকদের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ও জমির একাধিক দলিল তৈরি করে। এর পর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দলিল দিয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রেখে একটি ফ্ল্যাটের বিপরীতে একাধিক ঋণ তুলে আত্মসাৎ করে আসছে।
সিআইডি বলছে, জয়নাল ও তাঁর চক্রের সদস্যরা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ক্রেতা হিসেবে হাজির হন। ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা বায়না করেন। এর পর ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের কথা বলে মালিকের কাছ থেকে দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের কপি সংগ্রহ করেন তারা। ফ্ল্যাটের মালিকের কাছ থেকে নেওয়া দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের তথ্য নিয়ে ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু অসাধু লোকের মাধ্যমে তৈরি করেন জাল দলিল। এসব দলিলে কখনও নিজে মালিক হন জয়নাল, আবার কখনও চক্রের অন্য সদস্যদের মালিক বানান। এর পর সেই জাল দলিল দিয়ে পাতেন ফ্ল্যাট বিক্রির ফাঁদ। ফ্ল্যাট পছন্দ হলে ক্রেতার কাছ থেকে বায়না বাবদ অগ্রিম টাকাও নেন জয়নাল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দলিল দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেন। 

আটকদের কাছ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি একই ফ্ল্যাটের একাধিক নকল দলিল ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল জব্দ করা হয়। একাধিক ভুয়া এনআইডি, টিন নম্বর ও বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং নগদ তিন লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

×