ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠনে ইজেনারেশনের উদ্যোগে ওয়েবিনারের আয়োজন

স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠনে ইজেনারেশনের উদ্যোগে ওয়েবিনারের আয়োজন

রিইমাজিন হেলথকেয়ার: সেইভ লাইভস উইথ ইনোভেশন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২০ | ০৩:০৯ | আপডেট: ১২ জুন ২০২০ | ০৩:৩৭

কভিড-১৯ মহামারির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় স্বাস্থ্য খাতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই মহামারির ফলে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা, হাসপাতালগুলোতে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগীর ভিড়, রোগীদের জন্য অপর্যাপ্ত সেবাদানকারী, সমন্বয়ক ও যোগাযোগ কর্মীদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকি মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যাওয়া। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কৌশল নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা খাতকে ত্বরান্বিত, পরিপূর্ণ ও সময়োপযোগী করার মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে আরটিভি আয়োজিত ইজেনারেশন প্রেজেন্টস ‘রিইমাজিন হেলথকেয়ার: সেইভ লাইভস উইথ ইনোভেশন’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়, যাতে সহযোগী ছিল দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক সমকাল। এতে শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উক্ত ওয়েবিনারের সঞ্চালক সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, চলমান বাস্তবতায় স্বাস্থ্য খাতে যদি তথ্যপ্রযুক্তির সক্ষমতাকে কাজে লাগানো যায় তাহলে দেশব্যাপী জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সেবা এবং পরামর্শ প্রদান করা যাবে। এতে বৃহৎ সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং জীবন বাঁচবে।

ইজেনারেশন গ্রুপের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এস. এম. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী মেডিকেল পেশাজীবীদের অভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। মেডিকেল সেবার চাহিদা ও সেবা প্রদানের সক্ষমতার মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে পারে প্রযুক্তি। ইজেনারেশনের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা যেমন টেলিমেডিসিন, আইসিইউ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, ইলেকট্রোনিক হেলথ রেকর্ড (ইএমআর) এবং মেশিন ইন্টিগ্রেশন সেবা রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সেবা খাতের সক্ষমতা, দক্ষতা এবং কার্যক্ষমতা উন্নত করতে পারে।

আয়াত স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুসরাত ফিরোজ আমান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য কিছু দেশের মতো আমরা যদি আমাদের সীমিত স্বাস্থ্য সেবা খাতকে দোষারোপ করি তাহলে সেসব দেশের মতো পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। বরং আমাদের সম্মুখভাগের যোদ্ধারা একেকজন নায়ক, তাদেরকে রক্ষা করা আমাদের জন্য অতীব জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের কভিড-১৯ স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষিত, পুনঃপ্রশিক্ষিত ও কাজে লাগানোর মাধ্যমে সেটি অর্জন করতে পারি।

ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, আমরা বিশাল সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও পত্রিকার মাধ্যমে আমাদের অনেকগুলো হটলাইন নম্বর প্রকাশ করেছি। এই অভূতপূর্ব সময়ে রোগীদের যথার্থভাবে সেবাদানের ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন সব থেকে কার্যকরী সেবা হতে পারে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পরামর্শক ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মুসতাক হোসেন বলেন, আমরা যদি একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি প্লাটফর্মের মাধ্যমে কভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে সবাই খুবই উপকৃত হবে। এটি কভিড-১৯ রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশনে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে সহায়তা করবে।

ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ. এম. শামিম বলেন, বিগ ডেটা, ইলেকট্রোনিক হেলথ রেকর্ড (ইএইচআর), টেলিমেডিসিন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা ভাইরাসটির দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারি। যদি স্বাস্থ্য সেবা খাত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করে তাহলে রোগীদের দূর্ভোগ বহুলাংশে কমে যাবে। মহামারি আমাদেরকে একটি সুযোগ দিয়েছে এবং আমাদের সেটি কাজে লাগানো উচিৎ।

প্রাভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভানা কাদের সিনহা বলেন, টেলিমেডিসিন আমাদের প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর হওয়া উচিত। এতে সরাসরি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের প্রবণতা কমে যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে টেলিফোন কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করার পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা খুবই আনন্দিত যে, ইতিমধ্যেই অধিকাংশ ইন-ক্লিনিক অ্যাপয়েনমেন্টকে আমরা টেলিমেডিসিনে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছি।

এএসসিইএনডি বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রধান প্রফেসর বে-নাজির আহমেদ বলেন, কভিড-১৯ প্রতিরোধে আমাদের সর্বপ্রথম করণীয় হলো মাস্ক পরিধান করা। এটি হতে হবে আমাদের মুখমণ্ডলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষ বড় ধরণের স্বাস্থ্য ব্যয়ের সম্মুখীন হবে এবং আমাদেরকে তাদের ভোগান্তি কমাতে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, ভাইরাসটির বিস্তার প্রতিরোধে কভিড-১৯ আক্রান্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং স্বাস্থ্য সেবা খাতকে আরও গতিশীল করতে এর কার্যক্রম পরিচালনাকে কাগজবিহীন করার উদ্যোগ নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান বলেন, হাসপাতালগুলোতে খালি থাকা বেডের তথ্য একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসা উচিত এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে নাগরিকরা কোন হাসপাতালে যেতে পারবে তা সহজে ট্র্যাকিং করার সুবিধা তৈরি করা উচিত। এটি হাসপাতাল এবং রোগী উভয়ের জন্য খুবই সহায়ক হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×