ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

উত্তরখানে রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্র খুন

উত্তরখানে রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্র খুন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২০ | ০৭:৫১

রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় সোহাগ (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ি খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণ উত্তরা কমার্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। হত্যায় জড়িতরা এলাকায় মাদকের কারবারে যুক্ত বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ জানায়, উত্তরখানে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সোহাগ। করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি গাজীপুরের টঙ্গী বাজার এলাকায় ভগ্নিপতি ওমর ফারুকের শুঁটকির ব্যবসায় সহায়তা করতেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খ্রিস্টানপাড়া এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় একটি চলন্ত রিকশার চাকা থেকে কাদা ছিটকে পাশের এক যুবকের গায়ে পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেই যুবক ও তার সঙ্গীরা রিকশাচালককে গালাগাল ও মারধর করে। এর প্রতিবাদ করেন সোহাগ। তিনি বলেন- সামান্য কাদা লাগার ঘটনায় রিকশাচালককে মারধর করা ঠিক হয়নি। এতে তারা গালাগাল করতে করতে এগিয়ে আসে এবং একজন সোহাগের নাভির নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উত্তরার নর্দান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে খ্রিস্টানপাড়া এলাকার কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই উত্তরখানের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান সাগর বলেন, সোহাগ নির্বিরোধী ও খুব ভালো মানুষ ছিল। তবে অন্যায় দেখলে সে প্রতিবাদ করতো। সর্বশেষ রিকশাওয়ালাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবু, শাহিন, রায়হান ও সাব্বির নামে চারজনকে আটক করেছে। তারা এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারা এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তথ্য দিতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত তাদের কাছ থেকে মাদক কিনতে এসেছিল হত্যায় জড়িতরা।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে খুন হন সোহাগ। তবে পুলিশ সেই দাবি অস্বীকার করছে। উত্তরখান থানার ওসি বলছেন, জড়িতদের বয়স ২২ থেকে ২৬ বছর বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এমন কোনো তথ্য মেলেনি। জড়িতদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন

×