স্বপ্নের পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে সর্ব সাধারণের জন্য। রোববার সকাল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আর সেতু চালু হওয়ার পর প্রথমদিনই লক্ষ্য করা গেছে যানবাহনের ব্যাপক চাপ। এদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত প্রথম ৮ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ১৫ হাজার ২০০টি গাড়ি চলাচল করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেলের অধিকাংশ চালক ও যাত্রীদের কারো মাথায় ছিল না কোনো হেলমেট। এমনকি হেলমেট ছাড়া অনেক মোটরসাইকেল তিনজন যাত্রী প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার প্রথমদিনই সেতুর দুই প্রান্তে দেখা মেলে শত শত উৎসাহী মানুষের। তারা আসেন স্বপ্নেরর পদ্মা সেতু ঘুরে দেখতে। আর এসব দর্শনার্থীদের নিয়েই সেতু পারাপারে 'রমরমা ব্যবসা' চলে। 

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা ভাড়ার মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও বাসে করে সেতু পার হন। এসময় তাদের থেকে আদায় করা হয় অতিরিক্ত ভাড়া।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, ভাড়ায় যাত্রী টানা এসব মোটরসাইকেলে দুজন করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক যাত্রীর মাথায় ছিল না কোনো হেলমেট। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

এভাবেই প্রায় অধিকাংশ মোটরসাইকেলে তিনজন যাত্রী পদ্মা সেতু পার হন। ছবি- সমকাল
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হাসান শাওন সমকালকে বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাওয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন সমকালকে বলেন, জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং প্রথমদিন বিবেচনা করে শুধু আজকের জন্য এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে এসব অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। মোটরসাইকেলে তিনজন যাত্রী চলাচলের কোনো সুযোগ নেই এবং চালকসহ যাত্রীদের হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কাল থেকে এ নিয়ম অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, তবে সড়কে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে কিনা তা দেখছে পুলিশ। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও আমলে নিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এদিকে পদ্মা সেতু পার হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হয় দুইশ টাকা। মোটরসাইকেলে করে সেতু পাড়ি দিতে সময় লাগে ১০ মিনিটের মতো। সেতুতে মোটরসাইকেলের টোল একশ টাকা। টোলের খরচ বাদে ১০ মিনিটের প্রতিটি ট্রিপে লাভ তিনশ টাকা করে লাভ করেন এসব মোটরসাইকেল চালকরা।