রাজধানী ঢাকার মিরপুর মডেল থানার মধ্যপীরেরবাগে শেষ হয়েছে ফুলকি-খেলাঘর ডিজিটাল শিশুশিক্ষা মেলা-২০২০। ফুলকি খেলাঘরের প্রথম সম্মেলন ও ফুলকি স্কুলের ১৩ বছর পূর্তি উদযাপনে এই দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ আয়োজনে গত শুক্রবার থেকে তিনদিনের এই মেলা শুরু হয়।

গত রোববার রাতে মধ্যপীরেরবাগের ফুলকি ক্যাম্পাসে এই মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন ঘোষাল। উদ্বোধন করেন খেলাঘর ঢাকা মহানগরী কমিটির সভাপতি ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। ফুলকি খেলাঘর আসরের আহ্বায়ক অশোকেশ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম আহবায়ক ও ফুলকি স্কুলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান। 

আরও বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ এমদাদুল হক, নারীনেত্রী ও সংগঠক হোমায়রা খাতুন, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি ডা. তানজিবা রহমান, বাংলাদেশ ডিজিটাল এডুকেশন সোসাইটির সভাপতি জসিমউদ্দিন জয়, সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার অমরেশ রায়, ফুলকি স্কুলের প্রধান শিক্ষক উম্মে রোমান জয়া, ভাইস প্রিন্সিপাল অলক সরকার অপু প্রমুখ।

পরে তিনদিনের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় যাদুশিল্পী স্বপন দিনারের যাদু প্রদর্শনী মাতিয়ে তোলে শিশু-কিশোরসহ সবাইকে। গান গেয়ে শোনান এস এম সলিমুল্লাহ্‌ মুরাদ, সাকিব, অর্ক ও সাকিবা। নৃত্য পরিবেশন করে অবন্তিকা রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রসেনজীত বিশ্বাস তন্ময় ও বৃষ্টি ভদ্র।

সম্মেলনে অশোকেশ রায়কে সভাপতি ও মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে ফুলকি খেলাঘর আসরের ৪৫ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথ পাঠ করান খেলাঘর ঢাকা মহানগরী কমিটির সভাপতি শ্যামল দত্ত। কমিটিতে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি: অমরেশ রায়, ডা. তানজিবা রহমান, জসিমউদ্দিন জয়, সমীর কান্তি হালদার ও অলক সরকার অপু, সহ-সাধারণ সম্পাদক: প্রসেনজীত বিশ্বাস তন্ময়, অর্থ সম্পাদক: উম্মে রোমান জয়া প্রমুখ।

ছবি: সমকাল

সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হয়- শিশুকল্যাণে আলোর পথযাত্রী জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের গুণিজন ও শিশু-কিশোর-তরুণসহ মোট ১৪ জনকে। সম্মাননা পান মনোরঞ্জন ঘোষাল, শ্যামল দত্ত, মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ডা. তানজিবা রহমান, জসিমউদ্দিন জয়, এস এম সলিমুল্লাহ্‌ মুরাদ, সাংবাদিক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, হোমায়রা খাতুন, স্বপন দিনার, মুহ. শাহাবুদ্দিন মুন্সী, শাখাওয়াত হোসেন রিমন ও প্রসেনজীত বিশ্বাস তন্ময়। ফুলকি খেলাঘরের ২০১৯ সালের জন্য মনোনীত সেরা ভাই তাহসিন জামান গলপো ও সেরা বোন অবন্তিকা রায়কেও সম্মাননা জানানো হয়।

তিনদিনের মেলায় আরও ছিল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল কর্মমুখী শিক্ষায় প্রয়োজনীয় সবধরনের উপকরণ ও সামগ্রী প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের আনন্দ-বিনোদনের নানা উৎসবমুখর অনুষ্ঠানমালা, শিশুতোষ ও শিক্ষামূলক বই, যাদু, পাজল ও কম্পিউটার গেমিং জোন, খেলাধুলা, পিঠা উৎসব, ডিজিটাল শিক্ষা, শিশুকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্যারেন্টিং সেমিনার ও কনফারেন্স। 

শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবক এবং এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে চক্ষু, ডেন্টাল ও স্বাস্থ্যসেবা, গুঁড়ো দুধ বিতরণ, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং ও স্ক্র্যাচ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রজেক্ট তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শিশু-কিশোর ও শিক্ষক-অভিভাবক-সংগঠকদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা এবং বিনামূল্যে র‌্যাফেল ড্র ছিল মেলার বিশেষ আয়োজন।