বেসরকারি অফডক বা আইসিডির জন্য নির্দিষ্ট ৩৭টি পণ্য ছাড়া বাকি পণ্য আগের মতো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। এটি করা হলে ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি। সোমবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বরাবর এমন চিঠি দেন চেম্বার সভাপতি। একই দাবি জানাতে আজ চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের সঙ্গে বৈঠক করবে বিজিএমইএ।

চিঠিতে মাহবুবুল আলম বলেন, আগে ৩৭ ধরনের পণ্য বেসরকারি আইসিডি থেকে খালাস হলেও বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে গত ২৫ জুলাই থেকে সব ধরনের পণ্য প্রাইভেট আইসিডি থেকে খালাস করার অনুমতি দেয় এনবিআর। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তের সময়সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি আইসিডিতে ধারণক্ষমতার কাছাকাছি কনটেইনার অবস্থান করছে। তা ছাড়া প্রাইভেট আইসিডিতে পর্যাপ্ত স্থান, ইকুইপমেন্ট ও শ্রমিক স্বল্পতার কারণে মালপত্র খালাসে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যেখানে মাত্র দুই দিনে পণ্য খালাস করা যায় সেখানে আইসিডিতে পণ্য খালাসে ক্ষেত্রবিশেষে ৭-৮ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এতে করে পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় প্রাইভেট আইসিডির চার্জ অনেক বেশি।

অর্থ ও সময় সাশ্রয় করতে তাই অনুমোদিত ৩৭টি পণ্যের অতিরিক্ত আমদানিকৃত পণ্য আর আইসিডিতে না পাঠানোর দাবি তুলেছে চিটাগাং চেম্বার। আজ মঙ্গলবার বিজিএমইর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বৈঠকও রয়েছে। এ বৈঠকেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সুযোগ চাইবে বিজিএমইএ। সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি আইসিডিতে দক্ষ জনবল নেই। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। এ জন্য পণ্য খালাস করতে তিনগুণ বেশি সময় লাগে সেখানে। আবার বন্দরের তুলনায় একটি কনটেইনার খালাসে সেখানে খরচও হয় তিনগুণের বেশি। তাই বন্দর ও কাস্টমসকে আমরা অনুরোধ করব, আগের মতো পণ্য খালাসের সুযোগ দিতে। বন্দরে কনটেইনার জট নেই এখন। আবার রপ্তানি পণ্যেরও চাপ বাড়ছে। তাই সম্প্রতি জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বলব আমরা।