চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের অপসারণ দাবি করে জেলা আইনজীবী সমিতি বলেছে, আইনজীবী ভবনের ভূমি নিয়ে মিথ্যাচার ও আইনজীবীদের সম্পর্কে অসম্মানজনক কথা বলেছেন তিনি। সে জন্য ক্ষমা না চাইলে আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। রোববার জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। তবে এ ব্যাপারে বারবার যোগাযোগ করেও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম, বদরুল আনোয়ার, কফিল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, মনতোষ বড়ূয়া প্রমুখ।

এএইচএম জিয়াউদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সম্মান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী সমাজ সংঘাতে বিশ্বাস করে না বলেই জেলা প্রশাসনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব সময় আইনি পথে হেঁটেছে। জেলা প্রশাসক বিভিন্ন গণমাধ্যমে জেলা আইনজীবী সমিতির নামে যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থার পথে হাঁটব। তাকে চট্টগ্রাম থেকে অপসারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমিতির ভবনগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুদানে এবং সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়। ভবনগুলো নির্মাণে বিভিন্ন দফায় প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান দেওয়া হয়। সমিতির কোনো ভবন অবৈধ হলে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয় অনুদান দিত না।
এএইচএম জিয়াউদ্দিন বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনগুলো সিডিএ থেকে যথাযথভাবে অনুমোদিত। যা সিডিএ থেকে জেলা প্রশাসনকে চিঠির মাধ্যমে ইতোপূর্বে জানানো হয়েছে এবং পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনগুলো নির্মাণের সময় কোনো পাহাড়-টিলা কাটা হয়নি। পাহাড়ের ঢালু রক্ষা করে অর্থাৎ পাহাড়ের আকৃতি, প্রকৃতি বিপন্ন না করে ধাপে ধাপে ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। যদি পাহাড়-টিলা কাটা হতো, তবে নিশ্চয় সে সময় সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধা দিত।
তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির সম্মান, মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য জেলা প্রশাসনের এহেন ঘৃণিত প্রয়াস দুঃখজনক। এ ছাড়া পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন যাতে নির্মাণ হতে না পারে, সে জন্যই জেলা প্রশাসন থেকে এমন ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।