আমার নিঃসঙ্গতা

 প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৯      

 হাসান শাহরিয়ার

গোলাম সারওয়ার

সহকর্মী সত্যিকারের বন্ধু হয় কী না সে তর্কের শেষ নেই। কর্মক্ষেত্রে সামান্য স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলেই বন্ধুত্ব ভেঙ্গে যায়। তখন সহকর্মী পরম শত্রুর রূপ ধারণ করেন। এই যুক্তির স্বপক্ষে ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা যায়। অপরদিকে, এক সঙ্গে কাজ করার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও বন্ধুত্ব অটুট থাকে। এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার। তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেননি। কোনো সহকর্মীর কুৎসা রটনা ছিল তাঁর জন্য রুচিবহির্ভূত। সকলের পক্ষে এই গুণটি আয়ত্ব সম্ভব নয়। শুধুমাত্র অত্যন্ত মহৎ হৃদয়, অপূর্ব জ্ঞানভাণ্ডার, সদাচারনিষ্ঠ, সত্যিকারের পেশাদারিত্ব কিংবা বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারীরাই এই গুণে গুণান্বিত হতে পারেন। গোলাম সারওয়ারের চরিত্রে এই গুণগুলোর এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটায় তিনি ছিলেন সর্বমহলে সমাদৃত ও নন্দিত। পেশার মান উন্নত রেখে এবং পেশাদারিত্বকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়ায় চরম সহিষ্ণু, পরিশ্রমী, অসাম্প্রদায়িক ও অকুতোভয় গোলাম সারওয়ার জীবনভর এদেশের সাংবাদিকতার অন্যতম শিরোমণি ছিলেন।

কিছুদিন ধরে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, কিন্তু ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে সেই লড়াইয়ে তিনি পরাজিত হন, চলে যান তাঁর প্রকৃত গন্তব্যস্থলে যেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসে না। আমার বন্ধু আশরাফ আহমেদ ও আমি তাঁকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম ৬ আগস্ট। ঐদিনই তাঁর একমাত্র মেয়ে রত্না আমেরিকা থেকে সিঙ্গাপুর এসে পৌঁছায়। অবশ্য তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে রঞ্জু ও অঞ্জু এবং জামাতা হাবিব ঢাকা থেকেই তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন। তিনি হাসপাতালের সিসিইউয়ে থাকায় কাছে যেতে পারিনি, কক্ষের বাইরে নীরবে দাঁড়িয়ে শেষ দেখা দেখেছিলাম, দোয়া করেছিলাম মহান আল্লাহতায়ালা যেন তাঁকে সুস্থ করে তুলেন। ঢাকা ফিরে এসে প্রতিদিনই ফোনে তাঁর স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছি। দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদের ব্যক্তিগত চেষ্টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার আগে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। তিনি আমার হাত ধরে বিদায় নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'দোয়া করবেন'। মনে পড়ে, ১৯৯৪ সালে গোলাম সারওয়ারকে কলকাতা নিয়ে গিয়েছিলাম। তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। সেখানে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে রত্না ও আমি একমাস ছিলাম। পরে আমেরিকায় সুচিকিৎসার ফলে তিনি আরোগ্যলাভ করেন। তখন তিনি পবিত্র হজব্রতও পালন করেন।

তাঁর অকাল মৃত্যুর এক বছর পর পিছন ফিরে তাকালে অনেক স্মৃতি মানসপটে ভেসে ওঠে, ভেসে ওঠে দৈনিক ইত্তেফাকের সোনাঝরা দিনগুলো। এ প্রসঙ্গে ড. মীজানূর রহমান শেলী সম্পাদিত 'হাসান শাহরিয়ার : সাংবাদিকতায় জীবন্ত কিংবদন্তি' পুস্তকে (পৃ. ৫৩)'এক প্রচারবিমুখ মেধাবী সাংবাদিক' শীর্ষক নিবন্ধে গোলাম সারওয়ার নিজেই বলেছেন, 'হাসান শাহরিয়ার ও আমার সৌভাগ্য, আমরা ইত্তেফাকে আমাদের পেশার দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অতিবাহিত করেছি। ইত্তেফাকের দিনগুলো আমার ও হাসান শাহরিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়। পত্রিকাটির জন্য আমার যে অন্তর্গত দুর্বলতা ও ভালোবাসা, তা আমি অকপটে প্রকাশ করে আনন্দ বোধ করি। আমার বিশ্বাস, বন্ধুবর হাসান শাহরিয়ারও এ ব্যাপারে অভিন্ন মনোভাবই পোষণ করেন। ইত্তেফাকের প্রতি আমাদের এই অখণ্ড ভালোবাসার অন্যতম কারণ, পত্রিকাটির সঙ্গে আমাদের অস্তিত্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। নেপথ্য কারণ, ইত্তেফাকের তরুণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বয়সে তরুণ সম্পাদক এই 'মানিকজোড়'কে খুব পছন্দ করতেন। দৈনন্দিনের সম্পাদকীয় বৈঠক ছাড়াও ইত্তেফাক নিয়ে তার নানা স্বপ্ন ও ভাবনা নিয়ে আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি তখনই বলতেন, তরুণদের জন্য ইত্তেফাকের দরোজা খুলে দিন। ওদের কথা লিখুন। চার রঙে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের মতো প্রথম দুঃসাহস তিনিই দেখিয়েছিলেন। তার স্বপ্ন রূপায়ণে তিনি যাদের ওপর নিশ্চিন্তে ভরসা করতেন, তাদের মধ্যে ছিলাম আমি ও হাসান শাহরিয়ার। একদা ইত্তেফাক অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দুর্যোগের কবলে পড়েছিল। হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছিল ইত্তেফাক ভবনে। এই ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে আমি, হাসান শাহরিয়ার, প্রয়াত হাবিবুর রহমান মিলন, সংবাদপত্র প্রেস শ্রমিক নেতা প্রয়াত ফজলে ইমাম আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পাশে ছিলাম। এই দুঃসহ দিনগুলো স্মরণের বালুকাবেলায় এখনও মাঝে মাঝে উঁকি দেয়'। আমি ভাগ্যবান যে, আমার কর্মক্ষেত্রে গোলাম সারওয়ারের মতো একজন সহকর্মী ও বন্ধু পেয়েছিলাম।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে এবং একে-অন্যের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার ফলে আমরা হয়ে গেলাম খাঁটি বন্ধু, একে-অন্যের নিঃস্বার্থ সুহৃদ। কর্মক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে যে স্বার্থের সংঘাত ঘটেনি তা নয়, কিন্তু আমরা ঐ বিষয়টিকে সব সময় গৌণ করে দেখেছি, প্রাধান্য দিয়েছি বন্ধুত্বের এবং ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের। এর ফলে আমাদের মধ্যে কখনও ভুল বোঝাবুঝি হয়নি। তাঁর বাড়ি বরিশাল, আমার বাড়ি বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জে। কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই; কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ছিল লৌকিক আত্মীয়তার অনেক ঊর্ধে। তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেনি। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্টতা আগে যেমন ছিল এখনও সেরকমই আছে। আমরা দু'জনে একসঙ্গে দেশবিদেশ সফর করেছি এবং একই শয্যায় ভাগাভাগি করে শুয়েছি। আমার প্রচণ্ড ও বিরক্তিকর নাকডাকার শব্দে হয়তো মাঝরাতে তাঁর ঘুম ভেঙ্গে গেছে; কিন্তু চিরদিন কথাটি গোপন রেখেছেন। আমরা আমেরিকার বহু জায়গা ঘুরেছি। তার মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, নেভাডা, টেপাস, ওয়াশিংটন ডিসি, আরিজোনা, নিউ মেপিকো ও মিশিগান। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সাতজন সম্পাদক ২০০৩ সালে আমেরিকা সফর করেন। এই দলে ছিলেন বজলুর রহমান (প্রয়াত), গোলাম সারওয়ার (প্রয়াত), আবুল আসাদ, রিয়াজউদ্দিন আহমদ, মোয়াজ্জেম হোসেন (প্রয়াত), আতিকুল্লাহ খান মাসুদ ও আমি। আমেরিকার মুসলমানগণ কীভাবে জীবনযাপন করছেন তা দেখানোই ছিল মর্কিন সরকারের উদ্দেশ্য। তাদের বদৌলতে আমরা মিশিগান, ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্ক সফর করি।

একবার গোলাম সারওয়ারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সৌন্দর্যের সমারোহ পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম গ্র্যান্ড কেনিয়ান যাচ্ছি। আঁকাবাঁকা ও বিপদসঙ্কুল পাহাড়ি পথ। চারদিকে শুধু বরফ আর বরফ। সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি না চালালে মুহূর্তের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। গোলাম সারওয়ারের একমাত্র জামাতা হাবিব গাড়ি চালাচ্ছিল। পাহাড়সমান বরফ অতিক্রম করে তাঁর পক্ষে এগিয়ে যাওয়া দুষ্কর হুয়ে পড়ল। আমরাগ্র্যান্ড কেনিয়ানের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছেছিলাম, কিন্তু কোনোকিছুই দেখতে পারিনি। তখন আমরা রওয়ানা দিলাম টেক্সাসের উদ্দেশ্যে। পথে পড়লো আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো রাজ্য। আরিজোনার তিন ভাগের এক ভাগ আদিবাসী ইন্ডিয়ানদের জন্য সংরক্ষিত। এই রাজ্যে ২৭টি আদিবাসী জাতি রয়েছে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো নাভাজো জাতি। পথেঘাটে কোনো আদিবাসী ইন্ডিয়ান চোখে পড়েনি। ইউরোপীয়দের শোষনের কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই নিউ মেক্সিকোতে আদিবাসীরা বববাস করছে। তাদের কাউকেও দেখতে পেলাম না। গোলাম সারওয়ারের ছেলেমেয়রা সত্যিকার অর্থেই আমাকে 'চাচা' বলে সম্বোধন করে। তাদের প্রতি আমারও ভালোবাসার কোনো ঘাটিতি নেই। ছ'মাস পর পর রত্না ও হাবিব দুস্প্রাপ্য একটি ওষুধ আমার জন্য আমেরিকা থেকে নিয়ে আসে।

ইত্তেফাকের প্রয়াত কার্যনির্বাহী সম্পাদক আসাফ-উদ-দৌলাহ্‌ রেজা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক। গোলাম সারওয়ার ও আমি তাঁর ভক্ততালিকার শীর্ষে ছিলাম। ইত্তেফাকের দুই মালিকের সঙ্গে দূতিয়ালি এবং তাদের মধ্যকার ঝগড়া মিটাতে তাঁর কোনো জুড়ি ছিল না। রেজা ভাইয়ের মৃত্যুর পর অবশ্য সেই গুরুদায়িত্ব গোলাম সারওয়ার ও আমাকেই পালন করতে হয়েছিল। রেজা ভাই ছিলেন প্রথাসিদ্ধ ও পুরনো ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর আধুনিক চিন্তা-ভাবনা অনেক সময়ই তাঁর দোরগোড়ায় হোঁচট খেয়েছে। খেলার খবরের জন্য তিনি দু'কলামের বেশি স্থান দিতে রাজি ছিলেন না। আমরা দু'জনে রেজা ভাইকে বললাম, খেলার খবর কমপক্ষে চার কলাম না ছাপলে আমরা পদত্যাগ করবো। রেজা ভাই আমাদের কথা মেনে নিলেন। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ খেলার খবর প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপার ব্যাপরেও তাঁর আর আপত্তি থাকলো না। ইত্তেফাকের সাধু ভাষার জন্য অনেকেই বলতো 'এটি বয়স্কদের পত্রিকা'। অবশেষে গোলাম সারওয়ার, রাহাত খান ও আমার ক্রমাগত পীড়াপীড়িতে ইত্তেফাকের ভাষা হলো চলতি। তবে আনন্দবাজার পত্রিকার আদলে সম্পদকীয়র ভাষা থাকলো গুরুগম্ভীর সাধু।

গোলাম সারওয়ার সংবাদের গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারতেন। তিনি জানতেন ইত্তেফাকের পাঠকেরা কি চায়। আমার 'অতীত অতীত নয়' গ্রন্থের ভূমিকা লিখতে গিয়ে গোলাম সারওয়ার বলেছেন, 'হাসান শাহরিয়ার আমাদের টালমাটাল, সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির টানাপড়েন ও গতিধারার প্রতি তীক্ষ্ণ মনোযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে উপমহাদেশের রাজনীতির সূক্ষাতিসূক্ষ পথরেখাই তিনি গভীর অভিনিবেশ সহকারে লক্ষ্য করে স্বীয় মতামত ব্যক্ত করেন। এখন অবশ্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণ করে অনেকেই 'ক্ষুরধার' কলাম লিখছেন। যখন এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সংবাদপত্রের তেমন খুব একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি, তখন ইত্তেফাকের হাসান শাহরিয়ার অনেকটা নিঃসঙ্গ বিশ্লেষক ছিলেন। ঘাত-প্রতিঘাতে উত্তাল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তার মন্তব্য প্রতিবেদন ইত্তেফাকের অনেক অনুপম বৈশিষ্ট্যেরই অন্তর্গত ছিল'। খবরের প্রাধান্য নির্ধারণ এবং পত্রিকার মেকআপ আকর্ষণীয় করতে তিনি ছিলেন পারদর্শী ও অদ্বিতীয়। তাই কেউ কেউ বলতেন, বার্তা সম্পাদক হিসেবেই তিনি ছিলেন সফল। আমি এর সঙ্গে একমত নই। তিনি দৈনিক 'যুগান্তর' ও দৈনিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে গেছেন। তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় পত্রিকা দু'টো শুধু সুদৃঢ় ভিত্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত নয়, তাঁর অনুপস্থিতিতেও তারা আজ নিজের বলে বলীয়ান।

গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। প্রেসক্লাবের সকল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও আমরা চুকিয়ে আড্ডা দিয়েছি। পরিচয়ের প্রথম দিন থেকেই আমাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। তিনি বোধকরি আমাকে ভিন্ন চোখে দেখতেন। তাই আমার সম্পর্কে তিনি মীজানূর রহমান শেলী সম্পাদিত বইয়ে লিখেছেন, 'প্রথম দর্শনেই মনোযোগ আকর্ষণের জাদুকরী, সম্মোহনী শক্তি রয়েছে হাসান শাহরিয়ারের। কে হাসান শাহরিয়ার, কী তার পরিচয়- আমার কাছে এ প্রশ্ন অবান্তর। একবার দর্শনেই দীর্ঘকাল মনে রাখার মতো একজন উজ্জ্বল, সফেদ, সৌম্য- চমৎকার মানুষ। এ তো তার বহিরঙ্গ। অন্তরঙ্গেও নির্মল তিনি। নানা বিশেষণে বিশেষিত করা যায়, তিনি একজনই। তিনি হাসান শাহরিয়ার'। 

তিনি মারা যাওয়ার পর আমি অনেকটাই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছি। আমার আনন্দে যিনি আনন্দিত হতেন, আমার দুঃখে যিনি ব্যথিত হতেন তিনিই তো নেই। কার সঙ্গে সময় কাটাবো? প্রেসক্লাবেও খুব একটা যাই না। বোধকরি শেষদিন পর্যন্ত আমার এই নিঃসঙ্গতা কাটবে না। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন--আজ এই দোয়াই করছি।

হাসান শাহরিয়ার: প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও বিশেতষক; দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিজেএ) ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস ও জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি।