ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আন্তর্জালে প্রতারণার জাল

অন্যদৃষ্টি

আন্তর্জালে প্রতারণার জাল

রতন কুমার তুরী

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:২১

রোববারের সমকালে একটা খবর ছিল– ২৫% মূল্যছাড়ের নামে শতভাগ অর্থ আত্মসাৎ। ই-ভ্যালির আদলে ই-বিপণীর প্রতারণার খবর এটি। এ রকম প্রতারণার নানা জাল রয়েছে আন্তর্জালে। ঘরে বসেই টাকা আয় করতে পারবেন; এক টাকাও খরচ হবে না। একশ টাকা জমা রাখুন অনলাইনে; দুইশ টাকা পেয়ে যাবেন। কিংবা বড় অংকের বেতনের চাকরির অফার দিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেক মানুষকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করার উদাহরণ আমাদের আশপাশে অজস্র। প্রতিনিয়ত প্রতারিত হওয়ার পরও কিছু মানুষ সতর্ক হচ্ছে না।

দেশের কিছু সংঘবদ্ধ চক্র এ অনলাইন প্রতারণার কাজে বেশ কৌশলে জড়িত হয়ে পড়েছে। এরা কখনও এলাকাভিত্তিক, কখনওবা রাজধানী ঢাকায় বসে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে।

এরা অনলাইনে চাকরি দেওয়ার নাম করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এরা এসব চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি পাওয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেয়, যে শর্তে দুই থেকে তিনশ টাকা বিকাশ কিংবা ড্রাফড থাকে। এই শর্তে  মানুষ সহজেই পা দেয়। কখনও কখনও হাজার হাজার মানুষ এই টাকা দিয়েই আবেদন করে। মাঝখান থেকে এরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এর পর এরা আবার প্রতারণার কৌশল পাল্টিয়ে মাঠে নামে। এভাবে দেশে অসংখ্য অনলাইন প্রতারকচক্র কাজ করছে। এরা চাকরি ছাড়া অনলাইনে ভুয়া সার্টিফিকেট বানানো এবং প্রেরণ, অনলাইনে ভুয়া সামগ্রী পাঠিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, অনলাইনে কোটি টাকা লটারি পেয়েছে বলে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ অসংখ্য প্রতারণার ফাঁদ পেতে রাখে।

মূলত লোভ সামলাতে পারলে আর একটু সতর্ক হলে এসব অনলাইন প্রতারণা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমাদের মধ্যে অসংখ্য মানুষ আছে কষ্ট না করেই খুব তাড়াতাড়ি টাকা আয় করতে চায়। এরাই এসব অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বেশি। এরা দ্রুত টাকা আয় করতে গিয়ে এবং রাতারাতি বড়লোক হতে গিয়ে এদের পাতা ফাঁদে সহজে পা দিয়ে সর্বস্ব হারায়। অনলাইনে চটকদারি বিজ্ঞাপন দেখার পর তা যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে এসব প্রতিষ্ঠানে এক টাকাও বিনিয়োগ করা উচিত নয় । এসব ভুয়া অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে থামাতে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এ ধরনের সন্দেহজনক কোনো অনলাইন প্রতিষ্ঠান দেখলে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন যদি এই ভুয়া অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরু থেকে বন্ধ করতে পারে তাহলে অন্ততপক্ষে এলাকার মানুষ প্রতারিত হবে না। এসব প্রতারকের কারণে অনেক সময় নামকরা এবং ভালো অনলাইন ব্যবসায়ীদের মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। যার ফলে সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র কিছু দুষ্ট মানুষের কারণে দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাতে বসেছে। যদি অনলাইনের এই দুষ্টচক্রকে থামানো না যায় তাহলে অনলাইন কার্যক্রমের প্রতি অধিকাংশ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যেতে পারে।

নিরীহ মানুষকে অনলাইনের ফাঁদে ফেলানো এসব দুষ্টচক্র সমূলে উৎপাটনে জোরালো আইনি পদক্ষেপসহ মানুষকে অধিক সচেতন হতে হবে। অনেক সময় এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যায় এবং আবার সে কাজগুলো করতে থাকে। তাই এসব প্রতারককে বিচারের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রেখে আইন তৈরি করতে হবে। অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে হলে সবাই সতর্ক হই; আশপাশের মানুষকে সচেতনসহ সতর্ক করি।

রতন কুমার তুরী: কলেজ শিক্ষক

আরও পড়ুন

×