করোনাকালে অনলাইন ক্লাস খুব আমোদের বিষয় যেমন নয়, তেমন খুব স্বাভাবিক ঘটনাও নয়। আপদকালে বিশেষ ব্যবস্থায় পড়াশুনার দুর্যোগ ঠেকাতে অনলাইন ক্লাস নিয়ে চিন্তা-ভাবনা। 

তবে কতিপয় সরকারি (স্বায়ত্তশাসিতসহ) বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু 'স্বাভাবিক' দুর্যোগ আছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাছে মাসের পর মাস ক্লাস না হওয়া, পরীক্ষা দেরিতে হওয়া বা পরীক্ষার ফল বিলম্বে প্রকাশ হওয়া মহাদুর্যোগ মনে হচ্ছেনা, অস্বাভাবিকও লাগছেনা। এমতাবস্থায় অনলাইন ক্লাসকে নয়া আপদ মনে হতে পারে। এক অর্থে তো অনলাইন ক্লাস আপদ (অসুবিধাজনক অর্থে) এবং অস্বাভাবিক (অনভ্যস্ত অর্থে), বুঝলাম; কিন্তু বিদ্যমান আপদকে গোচরে নিয়ে কেজো সমাধান করায়ত্ত করা তো শিক্ষার একটি উদ্দেশ্য।

কেবল 'সমস্যা' আর 'সীমাবদ্ধতা'র জাবর কেটে অনেক সময় কেটেছে; এখন দরকার সাহসী বিচক্ষণতা বা বিচক্ষণ সাহসিকতা যা বিদ্যমান সমস্যাকে আমলে নিয়ে এমন সমাধান তৈরি করবে যেন তা সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। সবকিছু অনায়াসে পেয়ে যাওয়া খুব কাজের কথা নয়। আপদকালে যা জরুরি তা গিন্নিপনা: ঘরে হঠাৎ অতিথি আসলে চায়ের সাথে টা নেই বলে বিব্রত না হয়ে বরং টুকটাক যা আছে তা দিয়ে বড়া-পাকোড়া তৈরি করা যেমন, অনেক-নাইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যা-যা আছে তার সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস করা তেমন। এটা বলা শক্ত যে অনলাইন ক্লাস আপদ থেকে আমোদ হয়ে ওঠে কিনা, তবে এদ্দিন ধরে স্বাভাবিক হিসেবে চলে আসা অনেক কিছু যে আদতে স্বাভাবিক নয় তা ঢের বোঝা যাচ্ছে। বোধে এই গুঁতোখানি দরকার ছিল!

আপদকালীন জটিলতায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসে ৩টি পক্ষ আছে: প্রশাসন যার কাজ অনলাইন ক্লাসের সংজ্ঞায়ন ও কর্মপরিকল্পনা করা আর তার বাস্তবায়নে বিধান তৈরিসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়া; আছেন শিক্ষক যারা অনলাইন ক্লাসের সঞ্চালক হবেন; আর শিক্ষার্থী যারা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেবেন। এরকম বিভিন্ন আলাপের ধারাবাকিতায় এবার গোচরে আনতে চাই ক্লাস যারা নেবেন সেই শিক্ষকদের। আলাপের শেষে থাকছে বাংলাদেশে ব্যবহারোপযোগী অনলাইন ক্লাসের কিছু নকশা।

শিক্ষকদের যা বোঝার আছে

এক. অভিজ্ঞতার অভাব নিশ্চয়ই শিক্ষকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তবে এরকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তো সব শিক্ষকই হয়েছেন: ক্লাসরুমে নেওয়া প্রথম ক্লাসটির যা চ্যালেঞ্জ, অনলাইনে নেয়া প্রথম ক্লাসটির চ্যালেঞ্জ তার কাছাকাছি। তবে তফাৎ আছে। দুটি বড় তফাতের একটি হচ্ছে: শিক্ষকরা যখন শিক্ষার্থী ছিলেন তখন ক্লাসরুমে ক্লাস করেছেন, তাই ক্লাসরুম বড় পরিচিত লাগে।

অনলাইন ক্লাস করেছেন হয়ত হাতে-গোণা কয়েকজন, তাই অধিকাংশ শিক্ষকের কাছেই অনলাইন ক্লাসকে অদ্ভুত তো বটেই, উদ্ভট আর উদ্বেগজনক লাগার কথা আর তা স্বাভাবিক! কিন্তু, এই আপদকালে যদি অনলাইন ক্লাস নিতেই হয়, তাহলে অন্য অনেক নতুনের মত এই নতুনেও শিক্ষকরা অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন, ভুলচুক করতে করতে। তাই প্রথমে দরকার ইচ্ছে, গরজ, আগ্রহ।

দুই. আরেকটি বড় তফাৎ হচ্ছে প্রযুক্তিগত দক্ষতা। কোনো কোনো শিক্ষক হয়ত কখনো পাওয়ারপয়েন্ট বা ওয়েবক্যাম ব্যবহার করেননি, কিংবা ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেননি, কেউ কেউ হয়ত ইমেইল ব্যবহারেও স্বচ্ছন্দ নন। আবার যারা ওপরের সবটা করেন, তারাও যে চাহিবামাত্র অনলাইন ক্লাস নিতে পারবেন তা নয়। তাই ইচ্ছে ও গরজ তৈরির পাশাপাশি দরকার প্রযুক্তিগত দক্ষতা। আর, সেজন্য (প্রায়) সকল শিক্ষকের জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। যেহেতু সময় ও সুযোগের অভাব, অর্থাৎ হাতে-কলমে শেখার সুযোগ যেহেতু কম, তাই শিক্ষকদের বিভিন্ন দক্ষতা-লেভেলে ভাগ করে অনলাইনে দ্রম্নত এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা চাই। ... তারপরও যদি কোনো শিক্ষক ইচ্ছে না করেন বা সমর্থ না হন (কেন তিনি 'না' করছেন তার বয়ান পাওয়া জরুরি), তাহলে যা করা যেতে পারে তা এই যে: ঐ শিক্ষকের ক্লাস মজুদ করে রাখা যেতে পারে ক্লাসরুমের জন্য। ভাবছেন, তাহলে আর লাভ কী হল? আমার অনুমান: যদি অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ও, ফাইনাল পরীক্ষা ক্লাসরুমে হবে, সেজন্য ক্লাসরম্নমে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে কোর্স সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়।

সেক্ষেত্রে যেহেতু অনলাইন ক্লাসে চলা কোর্সগুলোর কাজ এগিয়ে থাকবে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে গেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের চাপ কম থাকবে। অনলাইন ক্লাস নিতে না চাওয়া শিক্ষকগণ তখন স্বল্পতর সময়ে বেশি সংখ্যক ক্লাস নিতে পারেন, তাতে কোর্সের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব।

তিন. যেসব ইয়ারে ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল বা সামনে শুরম্ন হওয়ার কথা ছিল, অর্থাৎ যেসব শিক্ষার্থীর ক্লাস মার্চ মাসে বা তার আগে শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের জন্য কি অনলাইন ক্লাস জরম্নরি নয়? ৪/৫ মাস যাবৎ নিয়মিত পড়াশুনা থেকে দূরে থাকবেন যারা, তারা কি ক্লাস খুলে গেলে ২/১ সপ্তাহর মধ্যে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন? ফল বিপর্যয়ও কি ঘটতে পারে? তাই কোর্স সম্পন্ন হয়ে গেলেও শিক্ষকদের উচিৎ হবে ব্যাপারটি বিবেচনা করা। সেইসাথে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসের বিধান প্রণয়নকালে এ বিষয়টি গোণায় ধরা হোক।

চার. ব্যবহারিক বা ল্যাব ক্লাস কিংবা প্রজেক্ট কিংবা মাঠ-পর্যায়ে উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয় এমন গবেষণার কাজ কিভাবে হবে বা আদৌ হবে কিনা তার পরিকল্পনা শিক্ষকগণই করুক। প্রশাসন শিক্ষকদের সহায়তা নিতে পারে।

পাঁচ. যেহেতু শিক্ষক হবেন কোনো অনলাইন ক্লাসের 'হোস্ট', তাই প্রত্যেক শিক্ষকের জানা দরকার অনলাইন/সাইবার আইন, নিরাপত্তা, এথিকস, ও শিষ্টাচার সম্বন্ধে যেমন, কাকে ক্লাসে অংশগ্রহণের 'অনুমতি' দেয়া হবে কিংবা চ্যাটবাপে কি কি লেখা হচ্ছে তা নজরে রাখা। তাই সাইবার কর্মপন্থা বিষয়ে চটজলদি প্রশিক্ষণ বা নির্দেশিকা থাকা জরুরি। তবু যদি শিক্ষক তা না পড়েন? তাই এমন ব্যবস্থা থাকতে পারে যে, অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম শুরুরর আগে প্রত্যেক শিক্ষক উক্ত বিষয়ে একটি ১০-প্রশ্নের এমসিকিউ ফর্ম পূরণ করে তা প্রশাসনকে ইমেইল করবেন, তাতে সমস্যার কিছু সুরাহা হতে পারে।

ছয়. তবে তারও আগে খোঁজ নিতে হবে সকল শিক্ষকের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার (ওয়েবক্যাম ও মাইক্রোফোন সহ) আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে তা সরবরাহের কিংবা তা কেনায় সহযোগিতা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।

সাত. গুগল মীটে ক্লাস নিতে গেলে খরচ করতে হয়না। জুমে ৪০ মিনিট পর্যন্ত ফ্রি; আরো লম্বা ক্লাস নিতে চাইলে ইউজিসি তার ব্যবস্থা করে রেখেছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের ডেটা সেন্টারের জুম অ্যাপিতকেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষক নির্ভার জুম ব্যবহার করতে পারেন।

আট. বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক কি এই করোনাকালে গ্রামের বাড়িতে বা এমন কোথাও আছেন যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা বিদ্যুৎসরবরাহ দূর্বল বা নেই? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ সাপেক্ষে বিষয়টি সুরাহা করা সম্ভব (যেমন, তিনি রেকর্ড-করা লেকচার সরবরাহ করতে পারেন)। একদমই কোনো সুরাহা করা না গেলে ক্লাস খুলে যাওয়ার পর বিশেষ রুটিনে ক্লাসের আয়োজন করা হোক।

নয়. সব শিক্ষকের কাছে ক্লাসের জন্য দরকারি বই বা কাগজপত্র আছে তো? যেহেতু বিভাগ কিংবা লাইব্রেরি কিংবা বইয়ের দোকানে যাওয়া হয়ে উঠছেনা, তাই নিজের কাছে যা আছে অথবা অনলাইনে লভ্য জিনিসপত্র দিয়েই ক্লাসের আয়োজন করতে হবে। একদমই সম্ভব না হলে দুটি কাজ করা যেতে পারে: হয় সিলেবাসের পরিমার্জনা (বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে) নয়তো ক্লাস খুলে গেলে বিশেষ রম্নটিনে ক্লাস নেয়া।

দশ. অনলাইন ক্লাস মেটেরিয়ল তৈরি কিংবা কার্যকর কুইজ পরিকল্পনা কিন্তু এক বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ ক্লাস বা কুইজটি তো ক্লাসরুমে হচ্ছেনা। তাই দরকার উদ্ভাবনী শক্তি। নিশ্চয়ই এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ খুব কাজের। কিন্তু সময় কই? তাই, আমাদের শিক্ষকতা বা শিক্ষণ-পদ্ধতির চালু-ঐতিহ্য মাথায় রেখে এ ব্যাপারটি শিক্ষকদের ওপর ছেড়ে দেয়াই মঙ্গল। যদি অনলাইন ক্লাস শুরু করতেই হয, তো সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই তা করতে হবে। সেইসাথে অনলাইন পেডাগজি বা শিক্ষণ-পদ্ধতির ওপর ম্যানুয়ল তৈরি করা শুরম্ন হোক। সবারই তা কাজে লাগবে, পরবর্তীকালেও।

শেষের কথা: শুরুর পানে ...

তবে হ্যাঁ, শুরু থেকেই অনলাইন ক্লাসের বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয়-আশয় নিয়ে আলাপ করে করে আমরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের সন্ত্রস্ত করে না ফেলি। বরং সকল চ্যালেঞ্জকে আমলে নিয়ে, অনলাইন ক্লাসকে একটু ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত ও বাস্তবায়িত করলে হয়ত তা আরো কাজের হবে আরো ব্যবহারবান্ধব, টেকসই ও ফলপ্রসূ হবে। যেমন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত প্রশাসন-শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আর্থ-সাংস্কৃতিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে এমনটি করা যেতে পারে:

(ক) 'লাইভ' ও 'ইন্টারেক্টিভ' অনলাইন ক্লাস হোক, তবে শিক্ষার্থীদের অ্যাটেনডেন্সের নম্বর না থাকুক।

(খ) ইন্টারনেট খরচ এবং আরো কিছু ঝুকি কমাতে শিক্ষার্থীদের ক্যামেরা অফ রেখে প্রয়োজনে সাউণ্ড অফ রেখে ক্লাস করার অপশন থাকা জরম্নরি।

(গ) খরচ আয়ত্তে রাখতে এবং আলোচনাকে মেদহীন রাখতে ক্লাসের স্থিতিকাল ৩০-৪০ মিনিট করা যেতে পারে।

(ঘ) যদি এমন হয় যে, কোনো শিক্ষক অনলাইন ক্লাসে আগ্রহী কিন্তু টেকনিকল বিষয়টি ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে প্রশাসন বা বিভাগ বা শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কেউ ঐ ক্লাসের 'হোস্ট' হতে পারেন। শিক্ষকের কাজ তখন হবে মূলত অনলাইন ক্লাসে ঢুকে লেকচার দেয়া।

(ঙ) অনলাইন ক্লাসটি রেকর্ড করে রাখা হোক, এবং শীঘ্র তা অন্য অনলাইন মাধ্যমে (গুগল ক্লাসরম্নমে, ফেসবুকে, ইউটিউবে, ইমেইলে) আপলোড করা হোক। কোনো শিক্ষক এ কাজটি করতে না চাইলে বা না পারলে অন্য কেউ তার হয়ে করে দিতে পারেন। যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে অনলাইন ক্লাস করতে পারলেননা, তাঁরা চাইলে সেই রেকর্ড শুনতে পারেন, ডাউনলোড করতে পারেন, শেয়ার করতে পারেন।

(চ) ক্লাসে ব্যবূত নোট, পিডিএফ, স্তাইড ইত্যাদি কোনো অনলাইন পত্যাটফর্মে (গুগল ড্রাইভ, য়ুটিউব, ফেসবুক, স্তাইডশেয়ার, একাডেমিয়া) আপলোড করা হোক যেন ঐ কোর্সের যে-কোন শিক্ষার্থী তার সুবিধামত সময়ে তা ডাইনলোড করে নিতে পারেন।

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স সংশোধন কিংবা আপদকালীন বিধান-প্রণয়ন সাপেক্ষে পরীক্ষা হিসেবে 'কুইজ' এবং/অথবা 'অ্যাসাইনমেন্ট' গ্রহণযোগ্য হোক। কুইজ-অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়া ও মূল্যায়নের জন্য গুগল ক্লাসরুম বা ফেসবুক বা ইমেইল ব্যবহার হতে পারে। যারা অনলাইনে কুইজ- অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারলেননা, তারা ক্লাস খোলার ১ বা ২ সপ্তাহের মধ্যে তা জমা দিতে পারবেন। তাহলে কী লাভ হল? যারা অনলাইনে কুইজ-অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারলেন, তাদের পড়াশুনা হল, কাজের চাপ কমল; যারা জমা দিতে পারলেননা, তাদের অন্ত্মত কাজ গুছিয়ে রাখা হল। তবে যা নিশ্চিত করা জরম্নরি তা এই যে: অনলাইনে জমা দেয়া বা না-দেয়া যেন নম্বর প্রাপ্তিকে প্রভাবিত না করে।

(জ) যদি এমন হয় যে, কোনো ব্যাপারে কোনো শিক্ষার্থীর প্রশ্ন আছে কিন্তু তিনি অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারছেননা, তাহলে তিনি তা অন্য যোগাযোগ মাধ্যম মারফৎ (যেমন, ইমেইল বা ফেসবুক, অনুমতি সাপেক্ষে মোবাইল ফোনে) শিক্ষককে জানাতে পারেন।

(ঝ) যদি কোনো শিক্ষক অনলাইন ক্লাস নিতে না পারেন বা না চান, সেক্ষেত্রে তিনি (ঘ)-(ছ) ধাপের কাজগুলো তো করতে পারেন; যেমন, লেকচার রেকর্ড করে তা নিজে বা অন্য কাউকে দিয়ে আপলোড করতে পারেন। তাও করতে না চাইলে লেকচার শীট বা স্লাইড আপলোড করতে পারেন স্লাইডশেয়ারে বা ফেসবুকে বা ইমেইলে। যদিও এজাতীয় কাজগুলো হয়ত অনেকের মতে 'অনলাইন ক্লাস'-এর চরিত্রের সাথে পুরোপুরি যায়না, তবু তো কিছু কাজ এগুবে! বিশ্ববিদ্যিালয়ে ফের ক্লাস চালু হলে কোর্সের কাজ সমাপ্ত করা ত্বরান্বিত তো হবে!

নতুন চ্যালেঞ্জ, ভোগাবে তো বটেই, কিন্তু এগুবেও যে আমাদের শিক্ষা, আমাদের প্রকাশ, আমাদের ঐতিহ্য।

লেখক: অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

বিষয় : অনলাইন ক্লাস করোনাভাইরাস

মন্তব্য করুন