জন্মদিনের শুভেচ্ছা

শেখ হাসিনা উদ্যোগী না হলে টেস্ট মর্যাদা পেতাম না আমরা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

নাঈমুর রহমান দুর্জয়

বাংলাদেশ যে জায়গায় ছিল, সেখান থেকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্ম বা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু। বাংলাদেশের একজন নাগরিক, ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য হিসেবে আপাকে ৭৪তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি (এসডিসি) ও মিলেনিয়াম গোল পার হয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে অনেকগুলো সূচকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন যুব সমাজের জন্য। এটা অনেক বড় অর্থ বহন করে। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের আর ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন তিনি। আমি বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে অবশ্যই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো। আর সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জেতার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস দেখেছি, তা কোনো দিন ভোলার নয়। আইসিসি ট্রফি বিজয়ের পর কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয় প্রধানমন্ত্রীকে। বঙ্গবন্ধু নিজে, শেখ কামাল, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল সবাই ছিলেন ক্রীড়ানুরাগী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরাধিকার সূত্রে ক্রীড়াপ্রেমী। মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি চলাকালে ফোনে খোঁজখবর নিতেন তিনি। জিতলে অভিনন্দন জানাতেন ফোনে। আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। একজন প্রধানমন্ত্রীর বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকা বিশাল পাওয়া ছিল আমাদের জন্য। সেদিন নিজের হাতে সকালের নাস্তা করিয়েছেন আপা। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল সংবর্ধনা দিয়েছেন, যেটা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। সংবর্ধনার পর আবার বাসায় নিয়ে নিজের হাতে লাঞ্চ করিয়েছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া সে ভালোবাসা আমাদের জন্য অনেক আবেগের। একজন মানুষ কতটা ক্রীড়া অনুরাগী হলে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন সেদিন।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেও নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন তিনি। আমাদের কী লাগবে, সেগুলো দেওয়ার জন্য বোর্ড অফিসিয়াল ও মন্ত্রণালয়কে বলতেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তখন খুব সীমিত সুযোগ-সুবিধা, বিকেএসপিতে ক্যাম্প করতে হতো। সেই সীমাবদ্ধতার ঘাটতি পূরণ করতে সচেষ্ট ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া এবং সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি বিজয়ের মধ্য দিয়ে। দেশের এক নম্বর স্পোর্টস এখন ক্রিকেট। সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি থাকায়। ২০০১ সালে আমাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন তিনি। পরে সব সময় তিনি বলতেন, 'তুমি তো আরও খেলতে পারতে।' এর অর্থ হলো, তিনি ছোটখাটো ঘটনাও লক্ষ্য করেন। তিনি খেলাটা ফলো করেন। কার কী প্রয়োজন, কী করলে ভালো হবে, সে খোঁজ রাখেন নিয়মিত। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধনের সময় আমি তার কাছাকাছি ছিলাম না। তিনি ঠিকই আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে মাঠ দেখিয়ে বলেছিলেন, 'খুব খারাপ লাগে না?' আমি জানতে চেয়েছিলাম কেন আপা? তিনি বলেছিলেন, 'তোমাদের সময় তো এত সুন্দর মাঠ ছিল না।' আমি বলেছিলাম, 'তা তো লাগে। আমাদের সময় ছিল না। এখন আছে আপনি করে দিচ্ছেন তাই।'
২০১৫ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে পাপন ভাই এবং আমিসহ আরও কয়েকজন লাউঞ্জে বসে খেলা দেখতাম। সেখানে অন্য দেশের অফিসিয়ালরাও থাকতেন। তারা লক্ষ্য করেন বাংলাদেশের খেলা চলাকালে আমি ও পাপন ভাই প্রায় ফোন নিয়ে দৌড়ে অন্যদিকে চলে যাই। তখন তারা জিজ্ঞেস করতেন, 'তোমরা কোথায় যাও বারবার ফোন নিয়ে?' আমরা যখন বলতাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী খেলার খবর নিচ্ছেন। তারা অবাক হতেন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সময়ের ব্যবধান উপেক্ষা করে খেলা দেখতেন তিনি। তিনি বলেছেন, 'ওদের বলো আমি ফজরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে খেলা দেখছি।' জায়নামাজে বসে খেলা দেখা মানে দলের জন্য দোয়া করা। একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শেখ হাসিনা ছাড়া বিশ্বে আর কোনো প্রধানমন্ত্রী এটা করতে পারবেন না। নারী ফুটবল দল জিতলেও আমাদের অভিনন্দন জানান তিনি। কারণ আমরা খেলার মানুষ।
আমরা দেখি যে কোনো খেলায় ভালো করলে, জিতলে প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে মিষ্টি খাওয়ান খেলোয়াড়দের। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে নিজের হাতে রান্না করা ফিরনি, পায়েস খাইয়েছেন ক্রিকেটারদের। অথচ দেখেন, ১৯৯৪ সালে মালয়েশিয়া থেকে যুব টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার পর আমাদের গণভবনে নিয়ে যান অফিসিয়ালরা ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমরা পৌঁছানোর অনেকক্ষণ পর তিনি এসে সিংহাসনের মতো একটা চেয়ারে বসেন আর খেলোয়াড়দের সামনের ফ্লোরে বসিয়ে ছবি তোলা হয়। আসলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারও তুলনা চলে না।
বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সময় অনেক বড় দেশ আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। তখন যে ক'টা দেশের সাপোর্ট পেয়েছি, বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন পেতে পেছন থেকে কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাবের ভাই, আশরাফুল ভাই তাদের পর্যায়ে কাজ করেছেন; কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ না থাকলে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়া সম্ভব হতো না। উদ্বোধনী টেস্ট নিয়ে আমরা খেলোয়াড়রা যতটা উৎফুল্ল ছিলাম, প্রধানমন্ত্রীও ততটাই আবেগ নিয়ে খেলা দেখেছেন। আমার বড় পাওয়া তিনি আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন এবং মানিকগঞ্জে একটা ক্রিকেট স্টেডিয়াম করে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আপনি দীর্ঘায়ু লাভ করেন।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য।